• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের যম খেজুর! আরও জানুন

bijoy71news
প্রকাশিত অক্টোবর ৬, ২০২৩
ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের যম খেজুর! আরও জানুন

খেজুর একটি বরকতময় ফল। আমাদের দেশে সাধারণ রমজান মাসে এই ফলের চাহিদা বাড়ে। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারিতে তিন-চারটা খেজুর খেলে দেহে শক্তি পাওয়া যায়। এর বাইরে বছরের অন্যান্য মাসগুলোতে খেজুর খুব কম মানুষই খেয়ে থাকেন।

অথচ, সারা পৃথিবীর তাবড় পুষ্টিবিদরা এই খেজুরের গুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সারা বছরই এই বরকতময় ফল খাওয়ার পক্ষে তারা। তাদের কথায়, এই ড্রাই ফ্রুটসে রয়েছে কার্ব, ফাইবার, প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন এবং ভিটামিন বি৬ সহ একাধিক জরুরি খনিজ ও ভিটামিনের ভাণ্ডার।

তাই নিয়মিত খেজুর খেলে যে শরীর ও স্বাস্থ্যের হাল বদলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য! তবে বেশি উপকার পেতে চাইলে রাতে কয়েকটি খেজুর পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালের নাস্তায় চট করে তা পেটে চালান করে দিতে পারলেই কেল্লাফতে। তাতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে। এড়ানো যাবে একাধিক রোগব্যাধি।

সুতরাং আর অহেতুক সময় নষ্ট না করে পানিতে ভেজানো খেজুরের গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নিন। তাতেই ফিরবে আপনার স্বাস্থ্যের হাল।

​কোষ্ঠকাঠিন্য নিপাত যাবে​

আপনার যদি সকাল সকাল পেট পরিষ্কার হতে না চায়, তবে যত দ্রুত সম্ভব পানিতে ভেজানো খেজুর খাওয়া শুরু করুন। কারণ এতে থাকা ফাইবার ও পানির প্রাচুর্য মলকে নরম করার কাজে সিদ্ধহস্ত। তাই নিয়মিত ভেজানো খেজুর খেলে যে কোষ্ঠকাঠিন্যের ফাঁদ অনায়াসে এড়িয়ে যেতে পারবেন, তা বলাই বাহুল্য!

হাড় হবে শক্তপোক্ত​

আজকাল খুব অল্প বয়সেই অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ পিছু নিচ্ছে। তাই সারাজীবন হেঁটে-চলে বেড়ানোর ইচ্ছা থাকলে আপনাকে হাড়ের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতেই হবে। এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে ভেজানো খেজুর।

কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, ফসফরাস এবং ম্যাগনেশিয়ামসহ একাধিক খনিজ, যা কিনা অস্টিওপোরোসিসের মতো অসুখের ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

ডায়াবেটিসের মহৌষধ

বাংলাদেশে এখন ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস রোগী। মুশকিল হলো, একবার এই অসুখের ফাঁদে পড়লে যে কোনো ধরনের মিষ্টি খাবার খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তবে ভালো খবর হলো, ডায়াবেটিসে আক্রান্তরাও কিন্তু অনায়াসে খেজুর খেতে পারেন। কারণ খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই কম।

তাই দিনে একটা খেজুর খেলে সুগার বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে খেজুর খান। এতেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।

​ব্রেনের কার্যকারিতা বাড়বে​

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেনের কার্যকারিতা বাড়াতে চাইলেও আপনাকে নিয়মিত খেজুর খেতে হবে। এতে রয়েছে এমন কিছু উপকারী ফ্ল্যাভানয়েডস, যা মস্তিষ্কের উপর দারুণ কাজ করে। ফলে বেশি বয়সে অ্যালঝাইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের মতো অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

ক্যানসার প্রতিরোধ সিদ্ধহস্ত​

ক্যানসার একটি জটিল অসুখ। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীকে ও তার পরিবারকে একাধিক ঝক্কি পোহাতে হয়। তাই যেনতেন প্রকারেণ ক্যানসারের ফাঁদ এড়িয়ে চলতে হবে।

এই কাজে আপনাকে সাহায্য করতে পারে খেজুর। কারণ এই ফলে এমন কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মজুত রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের হাল ফেরানোর কাজে সিদ্ধহস্ত। তাই ক্যানসারের মতো জটিল রোগ প্রতিরোধ করতে আপনি নিয়মিত খেজুর খাওয়া চালিয়ে যান। আশা করি ঠকবেন না।