• ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

নেত্রীর নির্দেশে ছুটছেন নাদেল

bijoy71news
প্রকাশিত মে ৩, ২০২০

নুরুল হক শিপু ::
তিনযুগ আগের কথা। স্কুল পড়ুয়া বালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। ‘রাজনীতি’ নামক শব্দটির সাথে তখন বালক নাদেল ছিলেন বেমানান। তবুও হৃদয়ে ঢুকে যায় ‘ছাত্রলীগ’। স্কুল জীবন থেকেই তাঁর শুরু-এখনও চলছে। ছাত্রলীগ থেকে ওঠে আসা নাদেল এখন শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ এক ভ্যানগার্ড। অনেক রথিমহারথিকে টপকে ৩ যুগ পর নাদেল এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। মফস্বলের সেই ছেলেটির হাতে অনেক বড় দায়িত্ব! এটিই ছিল দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বড় চমক।
সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন নাদেল-গত সম্মেলনের আগে এমন আলোচনার কমতি ছিল না। তবে নাদেলকে নিয়ে শেখ হাসিনার পরিকল্পনা যে আরো অনেক উপরে ছিল-তা প্রকাশ পায় নাদেল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর। অবশ্য নাদেল নিজেও দলীয় প্রধানের উপহার আপন মনে গ্রহণ করে নেত্রীর বার্তা নিয়ে ছুটছেন সিলেট থেকে ময়মনসিংহে।
বিশেষ করে করোনায় এই মহাবিপর্যয়কালীন সময়ে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল মানুষের কাছাকাছি থেকে যে মানবিক কাজ করছেন তা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। মানবিক কাজেও নাদেল ব্যতিক্রম। তিনি ও তাঁর বন্ধুরা মিলে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ লাখ টাকার খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছেন। কুলাউড়ায় ১৫শ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী উপহার দিয়েছেন তিনি। সিলেটে আরো ২ হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ এ নেতা। পাশাপাশি দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকদের মাধ্যমে চালু করেছেন ভিডিও কলে চিকিৎসাসেবা দেওয়া। নাদেলের নিজস্ব তিনজন মানুষ এ কাজে সার্বক্ষণিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন বিনা পারিশ্রমিকে। ভিডিও কলে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীদের দেওয়া হচ্ছে প্রেসক্রিপশনও।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল জানান, নিম্নমধ্যবিত্তরা মুখ খুলতে পারছেন না, তাদের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে খাদ্যসামগ্রী ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। তারা বিনিময়ে ২শ টাকা দিয়ে পরিবার চলে এমন চাহিদামূলক নির্দিষ্ট অঙ্কের খাদ্যসামগ্রী নিতে পারছেন। খাদ্য উপহার গ্রহণকারীরা কেন ২শ দিচ্ছেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা তাদের যথেষ্ট সম্মান করছি। আমরা বুঝাতে চাচ্ছি না-এটি কোনো অনুদান। তাই এতে তাদের অংশীদারিত্ব রাখছি। নাদেল বলেন, দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশের মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন। আমরা তাঁর কর্মী হিসেবে কাজ করতে পেরে গর্বিত। তিনি বলেন, নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত তিনি মানবিক কাজ করে যাবেন।’
নগরীর আম্বরখানা বড়বাজারের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা কামরান আহমদ বলেন, ‘শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল একজন মানবিক মানুষ-এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ দুঃসময়ে তাঁর মানবসেবা আমাদের মানবিক কাজের শিক্ষা দেয়।’
সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদার বলেন, ‘ছাত্রলীগের সোনালী অর্জন শফিউল আলম চৌধুরী সিলেটের মানুষের অহংকার। ছাত্রলীগের অগণিত কর্মীকে তিনি মানবিক শিক্ষার শিক্ষা দিচ্ছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে মানবিক রাজনীতি শিখছি।’
১৯৮৬ সালে সিলেট শহর স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়া নাদেল ১৯৮৮ সালে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য, ১৯৯৩-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৭-২০০১ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক এবং ২০১২ সালে একই শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকে আসীন হওয়া নাদেল জাতির পিতার আদর্শ ধারণ ও লালন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।