• ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

চাউল নিয়ে কাউন্সিলর লায়েকের সাথে এ কোন চাল?

bijoy71news
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ত্রাণের চাউল নিয়ে কোন চালে পড়েছেন কাউন্সিলর এ কে এ লায়েক? এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। তবে কাউন্সিলর লায়েকের শরীরে কালিমা লেপনের চেষ্টা চলছে-তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অবশ্য লায়েক ওয়াের্ডর মানুষের কাছে বেশ স্বচ্ছ রয়েছেন। ওয়ার্ডবাসী এ ঘটনায় লায়েকের পক্ষ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। যার কারণে গত দুদিন থেকে ওয়ার্ডের মুরুব্বি ও যুবসমাজ তাঁকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্যসামগ্রী।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ এড়াতে ঘরে আটকে পড়া নগর এলাকার অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তার জন্য একটি ফান্ড গঠন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কাউন্সিলরদের কাছে নিজ নিজ ওয়ার্ডের সহায়তা পাওয়ার উপযোগী লোকদের তালিকা চাওয়া হয়। ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এ লায়েক তালিকা দেন ৬ হাজার ২৪৫ জনের। এ তালিকা পেয়ে সন্দেহ হয় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। তিনি সে সন্দেহের কথা প্রকাশও করেন, এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় মেয়র আরিফ ও কাউন্সিলর লায়েকের। বিষয়টি মনে পুষে রাখেন মেয়র আরিফ।
বৃহস্পতিবার নগরভবনে উপস্থিত হন লায়েক। এক সময় মেয়রের গাড়িও প্রবেশ করে নগরভবনে। গাড়ি থেকে নেমে কাউন্সিলর লায়েককে দেখে পুরনো বিষয়টি মনে পড়ে যায় মেয়র আরিফের। তিনি লায়েককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ও একটা বেয়াদব। প্রতিবাদ করেন লায়েক। শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। বিষয়টি হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ানোর উপক্রম হলে উপস্থিত অন্যদের মধ্যস্থতায় তেমনটি ঘটেনি। মেয়র তখন লায়েকের ওয়ার্ডে সহায়তা না দেওয়ার কথাও বলেন। এরই মাঝে ১২৫ বস্তা চাল নিয়ে একটি ট্রাক ছুটে কাউন্সিলর লায়েকের বাসার উদ্দেশে। খাদ্য ফান্ডের তদারককারী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন তখন উপস্থিত ছিলেন। ভেবেছিলেন ঝামেলা হয়তো এতেই মিটে যাবে। তবে পরে এ নিয়ে হুলস্থুল শুরু হলে চেষ্টা চলে পাঠানো চাল ফিরিয়ে আনার। নানা জনের কাছ থেকে ফোন যায় লায়েকের কাছে। পরে খাদ্যসামগ্রীর ২৫০০টি তৈরি প্যাকেট দেওয়া হলে শুক্রবার চাল ফিরিয়ে দেন কাউন্সিলর লায়েক।
কাউন্সিলর এ কে এ লায়েক বলেন, তিনি জোর করে চাল আনেননি। তার বাসাতেই চাল পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, তার অনুপস্থিতিতে চাল রিসিভ করেন তার স্ত্রী। কাউন্সিলর লায়েক বলেন, জোর করে নিয়ে এলে তো রিসিভ করার প্রয়োজন হতো না। তার বাসা থেকে চাল উদ্ধারেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য ২৫০০ প্যাকেট তৈরি খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার পর তিনি নিজেই চাল ফিরিয়ে দিয়েছেন।
লায়েক বলেছেন, তিনি যদি চাউল জোরপূর্বক নিয়ে আসতেন ওই সময় সিসিকের আনসারসহ সকল কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন? সিসিক কেন প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র্যাবকে অবহিত করলো না। তিনি বলেন মাহবুব নামের কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা ১২৫ বস্তা চালের চালান আমার বাসায় পাঠানো হয়, যা রিসিভ করেন আমার স্ত্রী। প্রশ্ন হলো আমার স্ত্রী কীভাবে চাউল ডাকাতি করলেন?