• ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আচরণবিধি লঙ্ঘন: এনসিপি ও বিএনপি প্রার্থীদের নোটিশ

bijoy71news
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
আচরণবিধি লঙ্ঘন: এনসিপি ও বিএনপি প্রার্থীদের নোটিশ

পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী মো. সারজিস আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত নোটিশটি জারি করা হয়।

এনসিপির প্রার্থী মো. সারজিস আলমের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় নির্বাচনী জোটপ্রধানকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ, ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭ (চ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত ১০ দলীয় জোটের জনসভায় তিনটি তোরণ নির্মাণ করা হয়, যা আচরণ বিধিমালার বিধি ১৩ (ক)-এর লঙ্ঘন। এ ছাড়া, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল না করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা বিধি ১৬ (ক)-এর পরিপন্থী।’

নোটিশের বিষয়ে জানতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী মো. সারজিস আলমকে ফোন দিলে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে জবাব দেব।’

এদিকে একই অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ২৩ জানুয়ারি বিকেল থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনায় পঞ্চগড় পৌর এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রার্থীর পক্ষ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা নজরে আসে। অভিযান চলাকালে করতোয়া ব্রিজের দুই পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে স্থাপিত ফেস্টুন অপসারণের সময় প্রার্থীর কয়েকজন নেতা-কর্মী বাধা দেন এবং অসৌজন্যতামূলক আচরণ করেন।’

অনুমোদিত আকার (১৮×২৪ ইঞ্চি) অমান্য করে প্রায় ৬×৩ ফুট আকারের ফেস্টুন স্থাপন করার অভিযোগও আনা হয়। সেই নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেসবুক আইডি দাখিল না করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান এবং গভীর রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবৈধ জমায়েতের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ নওশাদ জমিরকে ফোন দিলে রিসিভ করেননি।

জানা গেছে, উভয় প্রার্থীর ক্ষেত্রেই আচরণবিধির বিভিন্ন ধারা—৭(চ), ৭(গ), ৭(৩), ১৩, ১৫(গ) ও ১৬(ক) লঙ্ঘনের অভিযোগে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।