বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। বর্তমানে এখানকার সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। ভারত অহেতুক হস্তক্ষেপ করে সম্প্রীতি নষ্ট করার পায়তারা করছে। ভারতের ফাঁদে পা না দেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণে শ্রী চৈতন্য মন্দির পরিদর্শন শেষে স্থানীয় চৌমুহনীতে ভারতীয় আগ্রাসন ও পতিত স্বৈরাচার কর্তৃক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র বন্ধের প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদ সভায় এ আহবান জানান বিএনপির এ নেত্রী।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা গায়েশ্বর রায় চৌধুরীকে যখন রাজপথে রক্তাক্ত করা হলো, তখন ভারতের মায়া কান্না কোথায় ছিল। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে অসুস্থ অবস্থায় আমাকে যখন প্রকাশ্যে টেনে হেচড়ে অপমান করে ডিবি অফিসে নিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়, তখন ভারতের দাদা বাবুরা কই ছিলো। আসলে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মায়া কান্না করছে না, তারা তাদের তাবেদার ফ্যাসিস্ট, পলাতক হাসিনাকে আবার বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসানোর জন্য পায়তারা করছে। কিন্তু আপনার, আমার, সকলের চোখ, কান খোলা রাখতে হবে। ভারতের এ চলচাতুরি বাংলার জনগণ কখনও পূরণ হতে দেবে না।
তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাস খোঁজে দেখুন, যেখান থেকে স্বৈরাচার পালিয়ে যায়, সেখানে আর ফেরা সম্ভব হয়নি। বাংলার জমিনেও স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনা আর ফিরতে পারবে না। ৫ আগস্ট বাংলার জনগণ তাদের যেভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, আগামীতেও প্রত্যাখ্যান করবে।
এডভোকেট নিপুণ রায় বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত ১৪/১৫ বছর দেশের জনগণ ধানের শীষে ভোট দিতে পারেনি। আগামীতে যাতে দেশের মানুষ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিতে পারে, সেজন্য এখন থেকে আপনারা মাঠে ময়দানে ও জনগণের দ্বারে দ্বারে ধানের শীষের আওয়াজ ছড়িয়ে দিতে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে সকলে সম্মিলিতভাবে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নোমান উদ্দিন মুরাদের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনে ধানের শীষের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে নানা অপকৌশলে বাংলাদেশে ঢুকার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ তারা দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করে মোদি সকারের মাধ্যমে ঢুকার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা জানেনা, বাংলার জনগণ ৫ আগস্টের ন্যায় দুর্গ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, বিগত ৪ আগস্ট সর্বস্তরের মানুষ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে যেভাবে ঢাকাদক্ষিণ তথা গোলাপগঞ্জ থেকে হাসিনার পেটুয়া পুলিশ-বিজিবি ও আওয়ামীলীগকে বিতাড়িত করেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে ভারতীয় আগ্রাসনকেও দেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ প্রতিহত করবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জলের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস, ছালিক আহমদ চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আশফাক আহমেদ চৌধুরী, রুহেল আহমদ, গোলাম কিবরিয়া, কফিল আহমদ, বদরুল ইসলাম, সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক লিটন আহমদ, যুগ্ন সম্পাদক আবুল কালাম খোকন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এডভোকেট মামুন আহমদ রিপন, যুগ্ন আহবায়ক শাহজান আহমদ, ঢাকাদক্ষিন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুহিব হোসেন, বুধবারী বাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হেলাল, আমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুল হক লুলু, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আহমদ, বাঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন, লক্ষনাবন্দ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন, লক্ষিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, বাদেপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুবুল আহমদ, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তারেক জলিল মাস্টার, শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সামসুল ইসলাম গেদা, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তানজিম আহাদ, ঢাকাদক্ষিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সুমেল আহমদ প্রমুখ।