• ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

৩৭ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো মেট্রোরেল

bijoy71news
প্রকাশিত আগস্ট ২৫, ২০২৪
৩৭ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো মেট্রোরেল

যাত্রী সেবা দেওয়া শুরু করেছে মেট্রোরেল।

কোটা সংস্কার আ‌ন্দোল‌ন চলাকালে মেট্রোরেল স্টেশনে ভাংচুর করার পর তৎকা‌লিন সরকার ও কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষ‌তির প‌রিমাণ ৩০০ কো‌টি টাকা এবং মেরামত করে পুনরায় চালু হতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে বলে জানিয়ে‌ছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাত্র ৩৭ দিনে এবং ৫০ কো‌টিরও কম খরচে চালু করতে সক্ষম হয়েছে।

রোববার (২৫ আগস্ট) সকাল ৭টা ১০ মিনিট এবং ৭টা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে দুটি ট্রেন মতিঝিলের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। 
এর আগে শ‌নিবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৬) অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাকারিয়া জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মেট্রোরেল ট্রায়াল (পরীক্ষামূলকভাবে চালানো) দেওয়া হয়েছে। রোববার মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেল ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী ডিএমটিসিএল-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে। অনিবার্য কারণবশত মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে আপাতত মেট্রোরেল থামবে না এবং যাত্রীসেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। 

প্রকাশিত সময় সূচি অনুযায়ী, সকাল ৭টা ১০ মিনিট এবং সকাল ৭টা ২০ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া মেট্রো রেল দুটিতে শুধুমাত্র এমআরটি পাস ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যাবে। রাত ৯টা ১৩ মিনিটের পর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে  ছেড়ে যাওয়া মেট্রো রেলসমূহে শুধুমাত্র এমআরটি পাস ব্যবহার করে ভ্রমণ করা যাবে। মেট্রোরেল স্টেশন হতে সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সিঙ্গেল জার্নি টিকিট ক্রয় করা যাবে। একই সঙ্গে এমআরটি পাস ক্রয় এবং এমআরটি পাস টপ আপ করা যাবে। রাত ৮টা ৫০ মিনিটের পর মেট্রোরেল স্টেশনসমূহের সব টিকিট বিক্রয় অফিস এবং টিকিট বিক্রয় মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে।

উ‌ল্লেখ‌্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই দিন বিকেল ৫টায় মেট্রোরেলের চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পরদিন মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হলেও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটিরও কম বলা হচ্ছে। 

দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মেট্রোরেল চালু করার বিষয়ে মত দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দুই দফায় মেট্রোরেল চালু করার বিষয়ে ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা সায় দিলেও কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামেন সাধারণ কর্মচারীরা। কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেওয়ায় ডিএমটিসিএলের কর্মীরা গত মঙ্গলবার থেকে কাজে ফিরেছেন। 

তবে মেট্রোরেল চালু হলেও মেরামত ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকায় আপাতত কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ আছে।