• ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বন‌্যা: প্রত‌্যন্ত অঞ্চলের বে‌শিরভাগ মানুষ ত্রাণ ব‌ঞ্চিত

bijoy71news
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২৪
বন‌্যা: প্রত‌্যন্ত অঞ্চলের বে‌শিরভাগ মানুষ ত্রাণ ব‌ঞ্চিত

ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশ। অতিবৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ভাসছে ১১ জেলা। বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটেছে ১৮ জনের। বৃষ্টি থামায় কিছু স্থান থেকে নামছে বানের পানি।

এখনো ৭টি নদীর পানি বইছে বিপৎসীমার ওপরে। তবে পাঁচ জেলার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা রাজ্যে বৃষ্টি কমে এসেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। 
এদিকে চট্টগ্রামে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। খাবার ও সুপেয় পানি সংকট ও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায় বিপর্যস্ত নোয়াখালীর জনজীবন। খাগড়াছড়িতে ভেঙে গেছে ব্রিজ ও পাহাড় ধসে অচল সড়ক। এ ছাড়া তিন দিনেও মেরামত হয়নি খুলনার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ।

ভয়াবহ বন্যার কবলে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী। চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, মীরসরাই ও হাটহাজারী উপজেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় শুরু হয়েছে সুপেয় পানি, খাবার এবং ওষুধের সংকট।

একইসঙ্গে প্রত্যন্ত গ্রামে পানিবন্দি বাসিন্দাদেরও উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ তিন উপজেলায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬।
চট্টগ্রামের দুই উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি।

ফটিকছড়ির হালদা, ধুরুংসহ ৩০ স্থানে পানি ঢুকে প্লাবিত সব ইউনিয়ন। সেখানে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। এসব মানুষের খাদ্য সংকট প্রবল হয়ে উঠেছে। কয়েকটি জায়গায় পানি নামতে শুরু করলেও সব ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে বয়স্ক ও শিশুদের দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। খাবার সংকট গ্রামগুলোতে।

ত্রাণ নিয়ে যাওয়া বিভিন্ন সংগঠন উপজেলা সদরে বিতরণ করে ফিরলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের বাসিন্দারা এখনো ক্ষুধা নিবারণের জন্য কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। যার ফলে সেখানে এখনো খাবার সংকট।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ফটিকছড়িতে ৫০ টন চাল এবং শুকনো খাবারের জন্য সরকারিভাবে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংস্থাও ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু কিছু জায়গায় ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হলেও বেশকিছু স্থানে যাওয়া যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চললেও তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ বানের পানি একমুখী।