• ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নানা চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

bijoy71news
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩
নানা চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জনের যে ডাক দিয়েছে তা আরও জোরদার করে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে চাচ্ছে। তবে এটিকে কোনো চাপ মনে না করার কথা বলছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ সারির নেতারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী নির্বাচনকে সফলভাবে সম্পন্ন করাসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জে রয়েছে। সুষ্ঠু ভোটসহ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বিরোধীপক্ষের আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপ সামলানো, ভোটকেন্দ্রে বেশিসংখ্যক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং ভোটারের আস্থা তৈরির চ্যালেঞ্জ বা চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিএনপির ভোট বর্জনের ডাক। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্ষমতাসীনরা ব্যর্থ হলে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের তকমা জোগাড় করা দুস্কর হয়ে পড়বে। এছাড়া আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোট কেন্দ্রে ভোটদের উপস্তিতি বাড়ানো। এটা না হলে এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য, দেশের মানুষ নির্বাচনমুখী। তারা কারো কথায় কান দেবেন না। যে দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তারা ভোটারদের নিরুৎসাহিত করলে মানুষ তা মানবে না। সারাদেশে এখন নির্বাচনের আমেজ। যারা ভোট বর্জন করার ডাক দিয়েছে, তারা আসলে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো চায় না। এটা দেশের মানুষ বুঝে গেছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করে আবারো পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায় বিএনপি। তাই দেশের মানুষই তাদের প্রতিহত করবে।

বিএনপি ও তার সমমনা দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও দেশের মানুষকে ভোট বর্জন ও নির্বাচনকে প্রতিহত করতে কর্মসূচি পালনে লিফলেট বিতরণ করছে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিএনপি দেশের মানুষকে ভোট বর্জন করার কথা বলেও তারা এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেনি- যাতে আওয়ামী লীগ কোনো চাপে পড়বে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত নতুন করে নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র শুরু করছে। তারা নির্বাচনে না আসলেও নির্বাচন নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। বিএনপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হরতাল অবরোধের নামে আগুন সন্ত্রাস করছে। এখন তারা ভোট বর্জন করতে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করছে। কিন্তু ভোট বর্জন ও নির্বাচন বানচালের স্বপ্ন কোনো দিন সফল হবে না। দেশের মানুষ নির্বাচন ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। ৭ জানুয়ারি জনগণ ভোট প্রদানের মধ্যে দিয়ে বিএনপিকে আরেকবার প্রত্যাখান করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও আওয়ামী লীগকে ভোটের আগেই বড় লড়াই করে ভোটারের আস্থা তৈরি করতে হবে। বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলো জনগণকে একদিকে ভোট বর্জনের করার কথা বলছে অন্য দিকে তাদের আন্দোলন, হরতাল, অবরোধ অব্যাহত রাখলে ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো এবারও ভোটকেন্দ্রে হামলা ও ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধাসহ নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। যা র‌্যাব-পুলিশ কিংবা বিজিবি দিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ ভোটকেন্দ্র বিমুখ হতে পারে। তবে সেনাবাহিনী নামনোর প্রক্রিয়া ভোটারদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।

এদিকে চলমান আন্দোলনে সারা দেশে যেসব চোরাগোপ্তা হামলা চলছে ভোটের আগেই তা রুখে দিতে আওয়ামী লীগকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপির কথায় দেশের মানুষ ভোট বর্জন করবে না। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার নামে আগুন সন্ত্রাস করে মানুষকে হত্যা করছে। এবারও বিএনপি ভোটে না আসলেও তারা আগুন সন্ত্রাস করে নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ তাদেরকে প্রতিহত করবে।-