২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ পন্ড হওয়ার পর আর প্রকাশ্যে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। গ্রেপ্তার হন দলটির অনেক সিনিয়র নেতা। আত্মগোপনে চলে যান কেউ কেউ ।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের আটক করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হবে। তাই যে করেই হোক মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন পর্যন্ত কারাগারে যাওয়া যাবে না। যে কারণে দলটির হাইকমান্ডের নির্দেশে অধিকাংশ নেতারাই পুরোনো মোবাইল সিম পরিবর্তন করে নতুন নাম্বার ব্যবহার করেছেন।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, সরকার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে এবং নির্বাচন প্রতিহত করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দফায় দফায় কথা বলছেন।
জানা গেছে, ২৮ অক্টোবরের পর বিভিন্ন নেতা ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বললেও ৩০ নভেম্বর থেকে গ্রুপ ওয়ারী কথা বলছেন তিনি।
সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর ও দক্ষিণের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালী বৈঠক করেন তারেক রহমান।
বৈঠকে উপস্থিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, সারাদেশে তৃণমূল নেতাকর্মীর ভূমিকায় সন্তুষ্ট হলেও সিনিয়র নেতাদের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারেক। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা নেই তারা রাজপথে না নামায় তাদের ভর্ৎসনা করেন। পাশাপাশি সরকারের কৌশলে নির্বাচনমুখী না হওয়ায় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের এক উপদেষ্টা ঢাকা টাইমসকে বলেন, প্রায় একমাস দলটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্মেলিতভাবে ভার্চুয়ালী কথা হয়নি। এখন আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনে সফলতা আনতে পুরোদমে সক্রিয় হব।
তিনি বলেন, আমি নিজেও এতদিন আগের মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে নতুন সিম ব্যবহার করেছি। আমরা অচিরেই রাজপথে নামবো।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ৩০ নভেম্বর মনোনয়ন জমার দেওয়ার পর প্রমাণ হয়েছে এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, যা বিএনপি আগে থেকেই বলে এসেছিল। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, বাসাবাড়িতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের জনগণের কাছে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে আমরা রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরে যাব।
বিএনপির সম্পাদক মণ্ডলীর এক সদস্য ঢাকা টাইমসকে জানান, তারেক রহমান ইতোমধ্যে অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালী কথা বলেছেন। যেহেতু নির্বাচনে জোর করে নেওয়ার আর সম্ভাবনা নেই, তাই এখন জেলকে ভয় না পেয়ে আমাদের আন্দোলনমুখী হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারাগার এড়ানোর জন্য স্বয়ং তারেক রহমানই বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের আন্দোলনমুখী করতে অল্প সময়েই মধ্যে রাজধানীতে একটি সমাবেশের পরিকল্পনা করছে দলটি। এ সমাবেশে সরকারের টার্গেট যেসব নেতা তাদেরকে সামনে না এনে অপেক্ষাকৃত মিডিয়াতে কম পরিচিতি মধ্যসারির নেতাদের সমাবেশ সফল করার দায়িত্ব দেওয়া হবে।
জানা যায়, আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে একটি সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। সমাবেশটি সরাসরি বিএনপির ব্যানারে না হলেও ২৯ নভেম্বরের মত নির্যাতিত পরিবারের স্বজনদের মত আরেকটি ব্যানারে করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ঢাকা টাইমসকে বলেন, দেশের নিরঙ্কুশ মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে। বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ১৫ বছর কোন ভয়ভীতি আমাদের থামাতে পারেনি। আমরা মাঠের কর্মী। এই লড়াইয়ে জয়লাভ করার জন্য নেতাকর্মীরা উম্মুখ হয়ে আছে। দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে আমরা মাঠে নামবো।