আজ বুধবার ঘোষণা করা হতে পারে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। তবে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি তফসিল ঘোষণার আয়োজনকে একতরফা দাবি করে তা প্রতিহতের ডাক দিয়েছে ইতোমধ্যেই। সরকার পতনের দাবিতে অলআউট আন্দোলনে নামা এ দলটির নেতারা বলছেন, তফসিল ঘোষণা করলে হরতাল ও ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে রাস্তায় নামবে বিএনপি। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা করা হবে হরতালসহ ইসি ঘেরাও কর্মসূচি।
এদিকে তফসিল ঘিরে কর্মসূচি নির্ধারণ করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণা হলে তা প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করবে বিএনপি।
এবার নির্বাচন ঠেকাতে একযোগে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে সরকারবিরোধী ডান-বাম ও ইসলামী দলগুলো। তফসিল প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে বিক্ষোভ মিছিল করবে তারা। এছাড়া তফসিলের পরদিন থেকে অবরোধের পাশাপাশি হরতাল, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে গণমিছিল কিংবা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি আসবে। বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা ৩৮টি দলের সঙ্গে লাগাতার কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনে থাকবে ইসলামী আন্দোলন ও বাম কয়েকটি রাজনৈতিক দলও। এছাড়া বেশ কয়েকটি ইসলামী দলও সরকারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা হলে বুধবার বিকালেই নির্বাচন কমিশন অভিমুখে গণমিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জমায়েত শেষে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে গণমিছিল শুরু করবে দলটি। তফসিলের প্রতিবাদে লাল পতাকা মিছিল করবে এবি পার্টি।
তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।
এদিকে আন্দোলনরত বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া একতরফা তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সমমনা ছয়টি ইসলামী দল। এছাড়া বাসদ ও সিপিবিও একতরফা নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে কর্মসূচি পালন করবে।
সরকার পতনের একদফা দাবিতে পঞ্চম দফার প্রথম দিন বুধবার সারাদেশে চলছে সর্বাত্মক অবরোধ। তফসিল জারির প্রতিবাদে অবরোধের পাশাপাশি বৃহস্পতি, রবি ও সোমবার হরতালের ঘোষণা দেবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। এদিকে তফসিলকে কেন্দ্র সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, হাইকমান্ড থেকে বলা হয়েছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মধ্যম সারি ও মাঠ পর্যায়ের যেসব নেতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন তাদের দিকে তাকিয়ে আছে দল। তাদেরকে আন্দোলন সফলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। গ্রেপ্তার এড়িয়ে নেতাদের মাঠে থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া তফসিলের পর আরো জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সারাদেশে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াতে জেলা নেতাদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হরতালসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তবে সরকার ও প্রশাসনের টার্গেট নেতাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কৌশলী ভূৃমিকা রাখার কথা বলা হয়েছে।
দলটির একটি সূত্র জানায়, যেহেতু পুলিশ প্রকাশ্যে বিএনপিকে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না, তাই আগে থেকেই সিডিউল ঠিক করে কোনো কর্মসূচি পালন করা হবে না। সেক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের ১ ঘণ্টার নোটিশে কর্মসূচিতে আসার জন্য প্রস্তুতি থাকতে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, এই মুহূর্তে সরকার তড়িঘড়ি করে একদলীয় নির্বাচনের মানসে একতরফা নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করলে তা শুধু সংলাপের সম্ভাবনাকে দূরীভূত করবে না, বরং দেশের সার্বিক রাজনীতির পরিবেশকেও আরও অনেক বেশি উত্তপ্ত করে তুলবে। তফসিল প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমরা তো আন্দোলন-সংগ্রামে আছিই। তিনি বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচন করার জন্য উন্মত্ত হয়ে গেছে সরকার। শেখ হাসিনা তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবৈধভাবে তফসিল দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছে। আমরা কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ার করে দিতে চাই- এই তফসিল নাটক বন্ধ করুন।
বিএনপির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল ঢাকা টাইমসকে বলেন, দেশের মানুষ একতরফা নির্বাচন মেনে নেবে না। আমাদের সংগ্রাম জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সরকার ১৫ বছর জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছে। এবার সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা জোনায়েদ সাকি বলেন, একতরফা তফসিল জনগণ মানে না। মানুষ নানা ফর্মে এর বিরোধিতা করবে। আমাদের বিশ্বাস একতরফা নির্বাচন ঠেকাতে তারা একযোগে রাস্তায় নেমে আসবে। তিনি বলেন, কর্মসূচির আলোচনার মধ্যে বিক্ষোভ, অসহযোগ, অবরোধ, হরতালসহ সব ধরনের কর্মসূচি রয়েছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল নিয়ে বুধবার বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। বিকেল ৫টায় কমিশনের বৈঠকের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।