আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে। গণভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বৈঠক দলীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। শেখ হাসিনা জানিয়েছেন কাদের তিনি মনোনয়ন দেবেন, আর কাদেরকে দেবেন না।
বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বিপুল ঘোষ। শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছেন ক্রসফায়ারের আসামি নাসিরকে সভাপতি ও শ্রমিক দলের শ্রম সম্পাদক ইমান আলীকে সাধারণ সম্পাদক করেছেন। ইমন আলী এখনো বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেননি। এক একর দশ শতাংশ জায়গা জোর করে দখল করেছেন। আব্দুর রহমান এই কমিটির জন্য সুপারিশ করেছেন। পাঁচ লাখ টাকা শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু নিয়েছেন। পৌর শহর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক বাদ দিয়ে কমিটি করেছে বলে অভিযোগ করেন বিপুল ঘোষ।
এছাড়া আওয়ামী লীগের আরেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা এমপির বিরুদ্ধে কথা বলেন। শেখ হাসিনা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘দলের মনোনয়ন দেব আমি। আমি যে খোঁজখবর নিয়েছি তার ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেয়া হবে।’
বৈঠকে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের এক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা এলাকা থেকে জিতে আসতে পারবে আমি তাদেরকেই মনোনয়ন দেব। জনপ্রিয়তা নেই, দুর্নীতি করেছে বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেব না। আমি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়েছি। যাদের যোগ্য মনে করব তারাই পাবে। সামনের পর দিনগুলো অনেক খারাপ। তাই যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশে নয় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো দিন দলে ফেরার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে।’
আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে নিয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনো দেশের কূটনৈতিকদের নিয়ে কথা বললে সেটি যেন ডিপ্লোম্যাটিক ভাষা হয়। বিতর্কিত কোনো বক্তব্য যেন কেউ না দেয়। শিষ্টাচার বহির্ভূত অশোভন আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। কেউ কোনো কিছু করে পার পাবেন না। ফজলুল হক চৌধুরী বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করা মোটেও উচিত নয়, কেউ এসব করতে পারবে না। কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে কোনো বাজে কথা বলারই দরকার নেই।’