আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল মধ্য নভেম্বরে ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সেই হিসাবে তফসিলের বাকি তিন সপ্তাহের মতো। তবে এখনো নির্বাচনের প্রত্যাশিত অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে দেশের গণমাধ্যম সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে কর্মশালা করে ইসি। সেখানেই সূচনা বক্তব্যে সিইসি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় সিইসি ছাড়াও অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, কোনো সংকট সৃষ্টি হলে তা নিরসনে ইসি অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের প্রত্যাশা আয়োজক হিসেবে নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। এই প্রত্যাশা প্রথম থেকেই ছিল, কিন্তু এখনও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশটুকু হয়ে ওঠেনি। ইসি চায় রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হয়ে উঠুক।
সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আবারও আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। বলেন, সবাইকে নিরন্তর আহ্বান করে যাচ্ছি, সংলাপ করেছি। যারা নির্বাচনে আসতে চান না তাদের আমার পক্ষ থেকে আধা সরকারিপত্র দিয়েছি। তবে সাড়া পাইনি।
দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশল তাদের নিজস্ব ব্যাপার বলেও মনে করেন সিইসি। বলেন, ‘তাদের নিজস্ব কৌশল থাকতে পারে। আমরা তার মধ্যে অনধিকার চর্চা করব না।’
২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যে ইসির পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ বেশ উত্তপ্ত। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। স্ব-স্ব অবস্থানে অনঢ় দু দলই কেউ কাউকে ছাড় দেবে না বলে জানিয়ে আসছে।
এমন প্রেক্ষাপটের মধ্যেও সময়মতো নির্বাচন আয়োজন করার বিষয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে ইসি। তার মধ্যে সিইসি ‘এখনো নির্বাচনের প্রত্যাশিত অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি’ বলে মন্তব্য করলেন।
‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণমাধ্যমের ভূমিকা, জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই কর্মশালায় আমন্ত্রিত ছিলেন ৩৮ জন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। বৈঠকে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য তাদের মত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।