সরকার পতনের একদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিএনপি। দলটি বলছে, ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশের মাধ্যমে শুরু হবে সরকার পতনের কাউন্ট ডাউন। এ সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হবে আন্দোলনের শেষ ধাপের কর্মসূচি।
বিএনপির সিনিয়র নেতারা সমাবেশ সফল করার পাশাপাশি পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা ছাড়াও উপস্থিত থাকছেন সমমনা জোট নেতারা। মঙ্গলবার রাতেও গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। এতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
২৮ অক্টোবরের সমাবেশে কি ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে? তা নিয়ে দলটির নেতারা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও সূত্র জানায়, আগামী ৩০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শুরু হবে চূড়ান্ত অধ্যায়।
আন্দোলনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির সমমনা জোটের এক শীর্ষনেতা বলেন, মূলত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। সরকার যদি সেদিন বাধা দেয় বা সংঘাত সৃষ্টি করে তাহলে সেদিন থেকেই শুরু হবে ডু অর ডাই লড়াই। তিনি বলেন, সরকারকে মনে রাখতে হবে ১০ ডিসেম্বর আর ২৮ অক্টোবর এক নয়। সেদিন আমাদের যথাস্থানে সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সরকার যদি এবারও তাই মনে করে তাহলে এজন্য তাদের কঠিন মাশুল দিতে হবে।
এদিকে বিএনপি সূত্র জানায়, ধারাবাহিক কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে সচিবালয় ঘেরাও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও, ঢাকা অবরোধ, হরতাল এমনকি ঢাকা ঘেরাও-এর মতো কঠিন কর্মসূচি। এসব কঠিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার কতটুকু কঠোর হতে পারে তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির এক নেতা জানান, আন্দোলন-কর্মসূচি নির্ধারণে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা শরিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে বিএনপি। তাদের কাছ থেকে কর্মসূচির বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা এসেছে। সেগুলো নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ-পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এবার কোনো আল্টিমেটাম দেওয়া হবে না।
মহাসমাবেশের পর একদিন বা দুদিনের বিরতি দেওয়া হবে ঢাকায় আসা জেলার নেতাকর্মীদের এলাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য। এরপর থেকে সচিবালয় ঘেরাও বা পদযাত্রা কিংবা সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে লাগাতার আন্দোলন শুরু হবে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কর্মসূচির ধরন নির্ধারণ করা হবে। সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি চলবে। এবার রাজধানীর পাশাপাশি জেলা শহরগুলোতে কঠোর আন্দোলন হবে। সেভাবে নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার এড়াতে ২৮ অক্টোবরের আগে কোনো কর্মসূচি রাখতে বারণ করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। তারা বলছে- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব সভা বা প্রস্তুতি সভাকে টার্গেট করে। সভা শেষ করে যাওয়ার পথে আটক করা হচ্ছে নেতাদের। বুধবারও দলের মহাসচিব নেতাকর্মীদের এমন দিকনির্দেশনা দেন।
সূত্র জানায়, এবারের কর্মসূচিতে আর কোনো বড় ধরনের বিরতি থাকছে না। তবে ২৮ অক্টোবরই একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে নাকি পরবর্তীতে কর্মসূচির পর আবার কর্মসূচি ঘোষণা করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাইতে পারেনি দলটি। তবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আন্দোলনের কর্মসূচি অনেকটাই চূড়ান্ত করেছে বলে একটি সূত্র ঢাকা টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ১৫টি বছর যাবত রক্তাত্ব হচ্ছে জনগণ। বঞ্চিত বাকস্বাধীনতা থেকে। এ থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য এই আন্দোলন। আর এবারের আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই হবে যে, যার উত্তাপে একদলীয় বাকশালী শাসন পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আব্দুস সালাম বলেন, জনগণ এ সরকার পতনের জন্য যেকোনো কঠিন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুত। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী জীবনবাজি রেখে ২৮ অক্টোবর থেকে রাজপথে থাকবে। হয় বিজয়, না-হয় মৃত্যু। এই আমাদের শপথ।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের সময় শেষ হয়ে এসেছে। এখন তাদের বিদায় নিতে হবে। আর জন্য আমরা সবধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে বিদায় জানাতে চাই। আমরা তাদের আহ্বান জানাবো- মানে মানে নিজে থেকেই যেন পদত্যাগ করে। আর যদি নিজে থেকে সরকার না সরে তাহলে তাদের বিদায় হবে অসম্মানজনকভাবে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের প্রসব বেদনা শুরু হবে। সেদিন যদি সরকার আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা করে তাহলে সেদিন থেকেই আমরা ঘরে ফিরে যাবো না। এই আন্দোলন শুধু বিএনপি বা গণতন্ত্র মঞ্চের নয়, এ আন্দোলন জনগণের আন্দোলন।