• ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

পূজার আগে কঠোর কর্মসূচি নয়, ফখরুলের আলটিমেটামে নেতাদের বিস্ময়

bijoy71news
প্রকাশিত অক্টোবর ৪, ২০২৩

সরকার পতনের দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখী রোড মার্চের মাধ্যমে ধারাবাহিক ১৫ দিনের কর্মসূচি শেষ হচ্ছে ৫ অক্টোবর। এসব কর্মসূচির মধ্যদিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের ‘শেষ ধাপ’ শুরু হবে- দল থেকে আগে এমন কথা বলা হলেও ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এদিকে সরকারের বিতর্কিত ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবরে বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানে অনেকটাই হতাশ হয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, আলটিমেটাম দেওয়ায় আগে ভাবা উচিত ছিল, সরকার আমলে না নিলে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী? বরং এ আলটিমেটামের কারণে সরকারের মন্ত্রীরা আমাদের টিপ্পনি কাটতে সাহস পেয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘মহাসচিব হঠাৎ করে কেন আলটিমেটাম দিল তা আমাদের বোধগম্য নয়। এছাড়াও এ আলটিমেটাম নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে কোনো রকম আলোচনাও হয়নি।’

অপর এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘কেন হঠাৎ করে আলটিমেটাম দিল তা মির্জা ফখরুল সাহেবকেই জিজ্ঞাসা করেন। এই আলটিমেটাম দেওয়ার আগে মহাসচিব আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো ডিসকাসড করেননি।’

এদিকে অক্টোবরের শুরুতেই আন্দোলনের দাবানলে পুড়তে থাকবে সরকার- এমনটি বিএনপি নেতারা বললেও এ মাসেও কঠোর কর্মসূচিতে যাবে না শুনে অনেকটাই হতাশা ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ঈদের পর চূড়ান্ত আন্দোলনের কথা বলা হলেও সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করা হয় ১২ সেপ্টেম্বর। এরপর এ এক দফা দাবিতে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করার পর ২৮ সেপ্টেম্বর মহাসমাবেশ করে দলটি। পরের দিন ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের পারফরম্যান্সে অনেকটা হতাশ হয়েছেন দলটির হাইকমান্ড।

সে কর্মসূচিতে নিজেদের ব্যর্থতা এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নতুন করে নেতাকর্মীদের আন্দোলনে প্রস্তুত হতে দেওয়া হয় নির্দেশনা। সে মোতাবেক বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিলেও এক মাস পার হয়ে গেলেও কঠিন কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয় দলটির নীতিনির্ধারকেরা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিভাগীয় রোড মার্চসহ ১৫ দিনের গতানুগতিক কর্মসূচি দেওয়া হয় এবং অক্টোবরের শুরুতে বিরতিহীন কঠোর কর্মসূচির মেসেজও দেওয়া হয় নেতাকর্মীদের। কিন্তু দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আবারও কঠিন কর্মসূচি থেকে দূরে থাকার বিএনপির নীতিগত সিদ্ধান্তে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ঈদ, পূজাসহ সব ধর্মীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত ছিল। কিন্তু যুদ্ধ তো বন্ধ ছিল না। এখনও আমরা যুদ্ধে আছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যুদ্ধ, বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ধর্মীয় বিষয়টি সর্বজনীন। এদেশের মানুষ এমনিতেই ধর্মপ্রাণ। তবে, প্রসব বেদনা উঠলে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা উৎসব তা ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রসঙ্গে দুদু বলেন, ‘বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। মহাসচিব আলটিমেটাম দিয়ে তার গুরুত্ব বুঝাতে চেয়েছেন।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘আজকে আমাদের চলমান আন্দোলনে সারাদেশের মানুষ সাড়া দিয়েছে এবং আমরা এ সরকারের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছি। আন্দোলনের সময়ই বলে দেবে আন্দোলনের গতিধারা কোন পথে যাবে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের দেশে হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয়ভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে, আমাদের কর্মসূচি তো থেমে নেই। অব্যাহত আছে। সরকার আমাদের নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। প্রতিটি কর্মসূচিতে প্রচুব জনসমাগম ঘটছে। আর এতেই সরকার ভয় পায়। আজকে আমাদের অহিংস আন্দোলনকে সহিংস করার অনেক পাঁয়তারা করেছে সরকার।’

‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন আত্মরক্ষার জন্য ঘুরে দাঁড়ায়। দেশের মানুষও আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে’-বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।