আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের চিন্তা মূলত বিএনপিকে ঘিরেই। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্বাচন পরিকল্পনা সাজিয়েছে দলটি। বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের কৌশল প্রয়োগ করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি না এলে বিকল্প কৌশলও ঠিক করেছে দলটি। এই দুই ধরনের ছক নিয়েই নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ।
দলটির শীর্ষ সারির নেতারা বলছেন, তবে ওই দুই কৌশল ছাড়াও পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত কৌশল নির্ধারণের পথও খোলা রাখা হয়েছে পরিকল্পনায়। যেমন পরিস্থিতি তেমন কৌশলকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মোটকথা সময় বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে দলটি। বিএনপি নির্বাচনে না এলে মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। নির্বাচনপূর্ব এমন সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই রাজপথে শক্তির জানান দিচ্ছে। কর্মসূচিও দিচ্ছে পাল্টাপাল্টি। রাজনৈতিক কৌশল দিয়ে চাপে ফেলতে চাচ্ছে একে অপরকে।
বিএনপি সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে চাইছে। চলতি মাসের মধ্যেই আন্দোলনের প্রত্যাশিত ফল পেতে নানা কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি। মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগকেও কাজে লাগিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে। আদায় করতে চাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি।
আর আওয়ামী লীগও পাল্টা কৌশল নিয়ে রাজপথে সরব রয়েছে। মার্কিন চাপ ছাপিয়ে সংবিধানে উল্লেখিত ব্যবস্থাতেই নির্বাচন করার পথে এগোচ্ছে দলটি। নির্বাচনি কৌশল নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দশ জন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে।
দলটির নেতারা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে এক ধরনের পরিকল্পনা-আর নিলে বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে তা রক্ষা করা হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না- এখনো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সে কারণে দুই ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও করেছে দলটি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য। বিএনপি মুখে যা-ই বলুক, আসলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকও। তিনি বলেন, ‘বিএনপি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই নির্বাচনে অংশ নেবে। তাদের নেতাকর্মীরাও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে না এলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না এলে কোন কৌশলে আওয়ামী লীগ আগাবে, তা সময় বলে দেবে।’
বিএনপি নির্বাচনে আসবে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতেই নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে কী করতে হবে এটা সময় বলে দেবে।’