• ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইশতেহার হবে যেমন কুকুর তেমন মুগুরের মতো: ওবায়দুল কাদের

bijoy71news
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৩

‘জুঁই ফুলে গান নয়, যেমন কুকুর তেমন মুগুর- এরকম ইশতেহার তৈরি’ করতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘সামনে চ্যালেঞ্জ। কঠিন চ্যালেঞ্জ, ক্ষমতায় থাকতে হলে তা অতিক্রম করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করবে বিএনপি।’

বৃহস্পতিবার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের জনগণের জন্য শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতের দান। আমরা গত বছরের ইশতেহার করেছি। ইশতেহার পড়ে কয়জন? বুলেট পয়েন্টে করুন ইশতেহার। কোনো দরকার নেই বিশাল একটা পুস্তক রচনা করার, এ ধরনের ইশতেহার কেউ পড়বে না। মানুষের সময়ও নেই। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সব জায়গায় আছে। আমাদের সময়ের সঙ্গে বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলতে হবে। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতায় থাকতে হলে এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জো বাইডেন বলেছেন আমি আবারও ক্ষমতা থাকতে চাই। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা এলে আমেরিকার গণতন্ত্র নষ্ট হবে। আমেরিকার গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। আমার বয়স কোনো ব্যাপার নয়, গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য আবারও ক্ষমতা থাকতে চাই। আমিও (ওবায়দুল কাদের) একইভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। এই স্পিরিটটা আমাদের রাখতে হবে। অ্যাকশনমুখী কর্মকাণ্ড করতে হবে। এখানে জুঁই ফুলে গান গেয়ে লাভ নেই। আমার সামনে এই ২৩ নম্বরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ, তার সামনে দাঁড়িয়ে আমি জুঁই ফুলের গান গাইব? আমাকেও অ্যাকশনে যেতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর- ঐরকম ইশতেহার তৈরি করুন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করব। এতে যদি কোনো পর্যবেক্ষক আসে, আসবে। না এলে কাউকে ডেকে আনা হবে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘২০৪০ সাল মাথায় রাখতে হবে জানি। ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে গেছে এখন মাথায় স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্টনেস কীভাবে আসবে? এর কীভাবে বিকাশ ঘটবে? এই বিষয়গুলো আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অতি কঠিন সময় অতিক্রম করতে পারব। কারণ আমাদের দলের অধিনায়ক সাহসী। তার অসীম সাহসের জন্য আমরা সাগর পাড়ি দিতে পারব।’

‘মির্জা ফখরুল সাহেব তো বলেই দিয়েছেন আর মাত্র কয়টা দিন, আপনারা কোথায় যাবেন? মির্জা আব্বাস বলে তারা নাকি চাঁদরাত দেখতে পায়। তারা নাকি আমাদেরকে তাড়িয়ে দিবে, আর কয়েকটা দিন পরেই নাকি আমাদেরকে চলে যেতে হবে। আমি গতকাল টঙ্গীতে বলেছি, আমরা এই অক্টোবরেও আছি, আগামী অক্টোবরও থাকব’- বলেন ওবায়দুল কাদের।

সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা ছোট হবে না বড় হবে সবই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি চাইলে সেটাকে ছোটও করতে পারেন, আবার বড়ও করতে পারেন। পৃথিবীর অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক দেশের মতো নির্বাচনকালীন সরকার রুটিন ওয়ার্ক করবে, মেজর কোনো পলিসি ডিসিশন নেবে না। এটা হল নিয়ম, এ নিয়ম মেনে আমরাও চলব।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় আমাদের দেশেও এবার সেভাবে হবে। কে এলো, কে এলো না, এটা আমাদের বিষয় নয়। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। আমরা কারো ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি না। কে আসবে, কে আসবে না এটা তাদের ব্যাপার। কে কারে নিষেধাজ্ঞা দিল সেটা আমাদের কোনো বিষয় না। নিষেধাজ্ঞা আমাদের বিষয় নয়, কারণ আমরা তো ইলেকশন করব। নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তারাই তো নিষেধাজ্ঞায় পড়বে। যারা বাধা দেবে তাদের গিয়ে ধরুন, তাদেরকে হুমকি দেন। একেক দিন একেক হুমকি আসে, কী আজব ব্যাপার?’

ইউক্রেন যুদ্ধে সারা পৃথিবী তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে, সুদান দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে, ফিলিস্তিনে প্রতিদিন নারীশিশুর রক্ত স্রোত, মিয়ানমারে কি হচ্ছে? রোহিঙ্গাদের চাপিয়ে দিয়ে মানবতার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করলেন, এখন তো আমাদের সাহায্য কমে যাচ্ছে, ১২ থেকে ৮ ডলারে চলে আসছে, আমরা কীভাবে চালাব তাদেরকে? কীভাবে চলবে এরা? আমরা আমাদের এসব নিয়েই আজকে ভাবছি। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছেন,পারেন না দুষ্টু ছেলে ইজরাইলকে থামাতে?’

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির এই প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এবং সদস্য সচিব দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. বজলুল হক খন্দকার, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. শামসুল আলম, ডা. দীপু মনি, শম রেজাউল করিম, শেখর দত্ত, ড. মাকসুদ কামাল, ড. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন, সাজ্জাদুল হাসান, তারানা হালিম, ওয়াসিকা আয়েশা খান, বিপ্লব বড়ুয়া, জুনায়েদ আহমেদ পলক, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত, সায়েম খান, সাদিকুর রহমান চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ।