ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের নামাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বলেন, ‘এরা কখনও আপসে আসেনি, আসবেও না। এর জন্য গড়ে তুলতে হবে দুর্বার আন্দোলন। আর এজন্য রাজনীতি ঢাকা থেকেই এ সরকারের পতন যাত্রা শুরু হবে। আর আন্দোলনে সরকারের সব অন্যায় অবিচার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।’
সোমবার বিকালে রাজধানীর ধোলাইখালে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে ইশরাক এসব বলেন।
সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়। ধোলাইখাল চৌরাস্তায় এ সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও এর পরিধি রায়ের শাহ বাজার, টিপু সুলতান রোড, এবং লক্ষ্মীবাজার পর্যন্ত বিস্তৃতি হয়ে পড়ে। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ইশরাক বলেন, বর্তমান শাসকদল নিজেদের রাজপরিবার ভাবছেন। ব্যাংকগুলো নিজেদের সম্পদ মনে করে খালি করে দিচ্ছেন। দেশটাকে ফোকলা বানিয়ে দিচ্ছেন। লুট করে দেশের মানুষকে অভাবে রেখে বিদেশে টাকা পাচার করছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা কোটায় অবৈধভাবে মেয়র হয়ে নগরবাসীর দিকে তাপসের কোনো নজর নেই। প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৮ জন মারা যাচ্ছে, সেদিকে তার দৃষ্টি নেই। দৃষ্টি বিএনপির দিকে। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলকে ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেছেন তাপস। আরে আপনি নিজেইতো অবৈধ। ঢুকতে দেওয়ার আপনি কে? দেশ কি আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি?’
ইশরাক বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারকে দেওয়া আল্টিমেটামের ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ভুমিকা দেখছি না। আজকে শুধু খালেদা জিয়া বন্দী নয়, বন্দী দেশের গণতন্ত্র বন্দী দেশের জনগণ। তিনি বলেন, আজ বিএনপি নেতা মজনু, রবিনসহ লাখো নেতাকর্মী বন্দী। আপনারা হতাশ হবেন না। সময় এসেছে কেরানীগঞ্জের কারাগার ভেঙ্গেই আপনাদের মুক্ত করার।
ঢাকা দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-স্বেচ্চাসেবক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, কাজী আবুল বাসার, রওনকুল ইসলাম টিটু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, অর্পণা রায়,ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক নবী উল্লাহ নবী, মোশাররফ হোসেন খোকন, আব্দুস সাত্তার, যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনাম প্রমুখ।