অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিনের অনুমতি ছাড়া তার কার্যালয়ের কেউ গণমাধ্যমসহ কোনো মাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিবৃতিতে স্বাক্ষর না করার ঘোষণা দিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচার স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলাচিঠি দেন বিশ্বের ১৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই খোলাচিঠির প্রতিবাদে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়ে ড. ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। অধ্যাপক ইউনূস ‘বিচারিক হয়রানির’ শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সভা শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি ছাড়া কথা বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়া শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি দেখবো।’
এমরানের বক্তব্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে হলে তাকে হয় পদত্যাগ করে বলতে হবে, অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি নিতে হবে। তিনি এমনটা করেননি। তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।’
শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে ডিএজির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আমি দেখবো।’
এদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়াকে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইং সূত্রে জানা গেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের সরকার নিয়োগ দিয়ে থাকে। ক্ষমতাসীন দলের মতের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও সরকারি আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরল। এ কারণে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া এ বক্তব্য নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এমরান আহমেদ ভূঁইয়া ২০১৯ সালে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।