বি৭১নি ডেস্ক ::
নির্বাচনের এক মাস বাকি থাকতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির ভোটগ্রহণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ ইস্যুতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুটি প্যানেল দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে। সদ্য বিদায়ী প্যানেল আব্দুল্লাহ হারুন পাশা এবং আব্দুল মান্নান গ্রুপ চায় অবসর ভবনেই ভোট নিতে। বিপরীতে আবু আলম ও কাজী রিয়াজুল হক প্যানেলের জোরালো অবস্থান তারা করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কোনোভাবে স্বল্প পরিসরের এই ভবনে ভোট দিতে চান না। এ অবস্থায় ভোটগ্রহণের স্থান পরিবর্তন কেন করা হবে না মর্মে একজন সদস্য উকিল নোটিশও পাঠিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন আয়োজের দায়িত্বে থাকা সরকার নিযুক্ত প্রশাসক এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সৈয়দ মো. নুরুল বাছির বলেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। যেহেতু হঠাৎ করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে সেহেতু এখন অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হবে। যদি সংক্রমণ আরও বেড়ে যায় তাহলে শেষ পর্যন্ত ৩ এপ্রিল ভোট নেওয়া সম্ভব হবে কি না-সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। যা হোক সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ হারুণ পাশা বলেন, গঠনতন্ত্রের বিধি অনুযায়ী অবসর ভবনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আমরা চাই, ভোট এখানেই নিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনার মধ্যে অনেক সংগঠনের ভোট নেওয়া হচ্ছে। বেশি সমস্যা মনে করলে নির্বাচন কমিশনার এবং প্রশাসক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানোর জন্য নির্বাচন ভেন্যু পরিবর্তন করতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সিনিয়র সদস্য লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। যাদের একজন হলেন আকম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা যদি বিধি নিয়ে পড়ে থাকি তাহলে তো সরকার বিশেষ বিবেচনায় এতকিছু করত না। করোনার কারণে ইতোমধ্যে সরকারকে আইন ও বিধিগত কত সিদ্ধান্ত তো পরিবর্তন করতে হচ্ছে। আর সেখানে আমরা যারা সবাই ষাটোর্ধ্ব, তাদের অবসর সংগঠনের নির্বাচন তো খোলামেলা পরিবেশে হওয়া খুবই জরুরি বিষয়। এসব প্রবীণ সদস্যদের নিয়ে কোনো নির্বাচন করতে হলে তো অবশ্যই খোলামেলা মাঠে কিংবা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে করতে হবে। সেজন্য আমরা অবসর ভবনসংলগ্ন ধানমণ্ডি এলাকার মধ্যে অন্তত আটটি বিকল্প স্থানের কথা উল্লেখ করেছি। কিন্তু কী বলব-কেউ কেউ গো ধরে বসে আছেন। এর ফলে ভোটারদের অনেকে ভোট দিতে আসবেন না। এ ছাড়া যেসব প্রার্থী ভোট চাইতে যাচ্ছেন তাদের সবাই আগে বলছেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করে কোনো খোলামেলা স্থানে নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩ এপ্রিল অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কল্যাণ সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। বিধি অনুযায়ী ধানমণ্ডির ৫-এ তে অবস্থিত অবসর ভবনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ১৯৭ জন।
সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন স্থান পরিবর্তন করা হবে। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণ আরও বাড়লে নির্বাচনের তারিখ পেছানো হতে পারে।