• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দেশের ক্ষতি করতে মিথ্যা বক্তব্য প্রিয়ার

bijoy71news
প্রকাশিত জুলাই ২০, ২০১৯

বি৭১নি ডেস্ক :
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রিয়া সাহার এই মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্যের পেছনে বাংলাদেশের ক্ষতি করার অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। সেখানে বাংলাদেশকে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতির ‘বাতিঘর’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
ভবিষ্যতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে দায়িত্বশীল কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রত্যাশাও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে করা হয়েছে।
এদিকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন। এই সম্মেলনেই প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন। এই সম্মেলনে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে তার অভিযোগে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইতিমধ্যে প্রিয়া সাহার বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করেছেন। এ ধরনের অভিযোগ শান্তিপূর্ণ সমাজে বিশৃঙ্খলা উস্কে দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা হতে দেবে না।’
প্রসঙ্গত, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া ১৯টি দেশের ২৭ জন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সাক্ষাৎকালে ট্রাম্পের কাছে নিজের দেশ সম্পর্কে ‘ভয়ঙ্কর’ অভিযোগ করেন প্রিয়া।
তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বিলীন হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বাংলাদেশেই থাকতে চাই। সেখানে এখনো ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ছাড়তে চাই না। শুধু থাকার জন্য সাহায্য করুন।’
ওই নারী আরও বলেন, ‘আমি আমার ঘরবাড়ি হারিয়েছি, তারা আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। তারা আমার জমিজমা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা (প্রশাসন বা সরকার) কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এখন পর্যন্ত।’
এ সময় ট্রাম্প তাকে প্রশ্ন করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে, কারা ঘরবাড়ি দখল করেছে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘তারা মুসলিম মৌলবাদি গ্রুপ। তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।’