• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে একমত বিজিবি-বিএসএফ

bijoy71news
প্রকাশিত জুন ১৫, ২০১৯

বি৭১নি ডেস্ক :
সীমান্তে নিহতের ঘটনা ও মাদক চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) একমত পোষণ করেছে। রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৪৮তম সীমান্ত সম্মেলনের আজ শনিবার ছিল শেষ দিন।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে বিএসএফের মহাপরিচালক রজনীকান্ত মিশ্রের নেতৃত্রে সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের শুরুতে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান এবং বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের জনগণ সব সময়ই উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের প্রশংসা করে এবং প্রত্যাশা করে যে, সীমান্তে নিহতের ঘটনা ও মাদক চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএসএফ ও বিজিবির সমন্বিত যৌথ কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) কার্যকরভাবে বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উভয় দেশের অপরাধীদের দ্বারা গবাদি পশু চোরাচালান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা এবং বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো :

ক. সীমান্তের যেসব এলাকায় গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালান হয়ে থাকে সেসব স্থানে সমন্বিত যৌথ টহল পরিচালনাসহ যৌথ কার্যক্রম গ্রহণ এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সীমান্তে নিহতের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উভয়পক্ষই সম্মত হয়েছে।

খ. সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা- সিবিএমপি (Coordinated Border Management Plan-CBMP) এর ওপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে উভয়পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সিবিএমপি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে।

গ. মানব পাচার ও অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হন।

ঘ. উভয়পক্ষ সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী অসতর্কতাবশতঃ সীমান্ত অতিক্রমকারী সাধারণ নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে দ্রুত সোপর্দ করতে সম্মত হয়েছে।

ঙ. উভয়পক্ষ সীমান্তে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদক, স্বর্ণ এবং জালমুদ্রা পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়েছে। চোরাচালান দ্রব্যসহ আটক ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রতিবেদন প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিময়ের বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।

চ. উভয়পক্ষ সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে সমন্বিত চেকপোস্ট ও স্থল বন্দর নির্মাণ কাজসহ বন্ধ থাকা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজগুলোর বিষয়ে যথোপযুক্ত পর্যায়ে জয়েন্ট ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে যতদ্রুত সম্ভব সমাধানের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ছ. উভয় মহাপরিচালক মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ভারত হতে বাংলাদেশে চলাচল প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখাসহ পরস্পরকে সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছেন।

জ. যৌথ নদী কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণে সহায়তা প্রদান এবং অননুমোদিত ভাবে সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ না করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।

ঝ. উভয়পক্ষ পর্যায়ক্রমে সীমান্তে নতুন ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করে কুমিল্লা এলাকায় দ্বিতীয় ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

ঞ. উভয়পক্ষ বিদ্যমান পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট ও আস্থা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়েছে।

ট. উভয়পক্ষ সীমান্ত এলাকার অপরাধী/চোরাচালানীদের তালিকা পরস্পরকে হস্তান্তর করেছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে পরস্পরের সহায়তা চেয়েছে।