• ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

খালেদা জিয়া স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না : বিএনপি

bijoy71news
প্রকাশিত মে ১৮, ২০১৯

বি৭১নি ডেস্ক :
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে বিএনপি। কারাবন্দী খালেদা জিয়া স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না বলেও জানায় দলটি।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বন্দী হওয়ার অনেক আগে থেকেই নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। একজন বর্ষীয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে তা বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়। কারাগারে অবস্থানকালীন তার কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।’
সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘সর্বশেষ দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনসুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কোনোরকমে জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন। অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ।’
‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন-তিনি (বেগম জিয়া) আয়েশ করে পায়েস খাচ্ছেন। তিনি অসুস্থতার নামে নাটক করছেন। দেশের একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের অসুস্থতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বিদ্রুপ ও রসিকতা করে আসছেন তা নজিরবিহীন। এধরনের দৃষ্টান্ত সভ্য দেশ ও সমাজে একেবারেই বিরল।’
তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য একজন বন্দীর মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এই বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতায় একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে।’
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে, বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সাজাই চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি হয় নাই। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরুপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী।’
সরকারের লোকজন শুরু থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন, কিন্তু কারাগারে থাকার সময় বন্দী দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজও দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনে দেওয়া একটি বক্তব্যর প্রসঙ্গ টেনে জমির উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে নিজ দলের উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে বলেছিলেন যে, বেগম জিয়া কোনোদিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে এসে সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতিমধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কিসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে তা জনগণের বুঝতে বাকি নেই। দেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনে এক মহাশৃঙ্খলের মধ্যে আবদ্ধ হয়েছে বলেই ন্যায় বিচার নিরুদ্দেশ হয়েছে। আর সেই কারণে অন্যায় এবং অবিচারের এক চরম বহিঃপ্রকাশের ফলশ্রুতি হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেওয়া।’
বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানো দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অশুভ উদ্দেশ্যেই কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার যাতে চরম অবনতি না ঘটে সেজন্য তাকে অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করান।’
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও চেয়ারপারমনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ।