বি৭১নি ডেস্ক :
ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শারীরিক অবস্থা সংকাটাপন্ন হওয়ায় এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্স শেষে একথা জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন।
সামন্তলাল সেন বলেন, ‘মেয়েটির শারীরিক যে অবস্থা তাতে পাঁচ ঘণ্টা ফ্লাই করা খুবই রিস্কি বলে মনে করছেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। মেয়েটির যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো স্থিতিশীল হলে তখন তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া যাবে। আমরা এই বিষয়টি তার পরিবারকেও জানিয়েছি, তারাও একমত পোষণ করেছে।’
এই চিকিৎসক বলেন, ‘‘সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ’র কনসালটেন্ট আমাদের সব কাগজপত্র চেক করেছেন। তারা আমাদের বলেছেন— ‘তোমরা এখন পাঠিও না।’ তারা আমাদের চিকিৎসার সঙ্গে একমত। এ ছাড়া তারা আরও কিছু সাজেশন দিয়েছেন।’’
সামান্তলাল আরও বলেন, ‘আমরা একটু পরেই মেয়েটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাবো। মোট কথা আমরা প্রতিনিয়ত সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে থাকবো। বিকেলেও তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হবে।’
জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডা. সামন্তলাল সেনকে ফোন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী রাফির ব্যাপারে খোঁজখবর নেন এবং তাকে প্রয়োজনে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ডা. সামন্তলাল সেন।
প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম (এইচএসসি) পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান ওই ছাত্রী। এর পর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বোরকা পরিহিত ৪-৫ জন ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়।
পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
আগুনে দগ্ধ ওই ছাত্রীর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, শনিবার সকালে তার বোনের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যান তিনি। তবে কেন্দ্রের প্রধান ফটকে নোমানকে আটকে দেন নিরাপত্তাকর্মী মোস্তফা। এর পর তার বোন একাই হেঁটে কেন্দ্রে প্রবেশ করে।
এ সময় নোমান কেন্দ্র থেকে একটু দূরে চলে আসেন। এর ১৫-২০ মিনিট পরই মোবাইলে তিনি তার বোনের অগ্নিদগ্ধের খবর পান। ফের কেন্দ্রে ছুটে গিয়ে বোনকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।ওই মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা বর্তমানে ফেনী কারাগারে আছেন।