• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে আলোচনায় মোমেন ও ফরাস

bijoy71news
প্রকাশিত জানুয়ারি ৬, ২০১৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৭টিতেই জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট। নির্বাচনের পর সিলেটজুড়ে এখন শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। আগামী সরকারের মন্ত্রিসভায় সিলেট থেকে নতুন কারা মন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই পাচ্ছেন, এই আলোচনা এখন সর্বত্র। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সিলেট-১ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের মধ্যে কোন একজন আগামী মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
সিলেট বিভাগ থেকে বর্তমান মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী আছেন তিনজন। তন্মধ্যে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী, অপরজন প্রতিমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম আব্দুল মান্নান সিলেটের সন্তান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে আরো এক বছর মন্ত্রিসভায় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মুহিত। সেক্ষেত্রে তাঁকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় রাখতে হবে। অন্যদিকে আগামী মন্ত্রিসভাতেও শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী মান্নান জায়গা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে সিলেট থেকে নতুন কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পান কিনা, তা নিয়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ কাজ করছে।
ড. এ কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি দেশে ফিরে সিলেট-১ আসনে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এই ছোট ভাই এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। এখানকার মানুষের ধারণা, অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে। ড. মোমেন কূটনৈতিক হিসেবে দক্ষ, অর্থনীতিতেও দখল রয়েছে তাঁর। এ প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জায়গা পেতে পারেন তিনি, এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের সন্তান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ছিলেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত মনোনয়ন পাননি। অর্থনীতিতে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে আগামী মন্ত্রিসভায় টেকনোক্রেট কোটায় শেখ হাসিনা তাঁকে স্থান করে দিতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন। অবশ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান যদি ফের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পান, তবে সিলেট থেকে অন্য কাউকে মন্ত্রী করা কঠিন হবেই বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘পূণ্যভূমি সিলেট থেকে সবসময়ই একাধিক সাংসদকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনের সাংসদ হিসেবে ড. মোমেন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তবে আমাদের বর্তমান তিন মন্ত্রী যদি মন্ত্রিসভায় টিকে থাকেন, তবে অন্য কারো স্থান পাওয়া কিছুটা কঠিনই হবে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী চাইলে নতুন কেউ সুযোগ পেতে পারেন।’