সিলেট :
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে মোটরগাড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবাসী আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুর রব (মল্লিক) নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাহার করে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন। তিনি তার প্রাপ্ত ভোটে হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘আমার শত শত কর্মী মাঠে কাজ করেছে। সব কেন্দ্রে আমার এজেন্ট ছিল। হাজার হাজার লোক আমাকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু হিসেবের খাতায় আমার ভোট এতো কম কেন? আমার এতো ভোট গেল কই?’
মল্লিক মঙ্গলবার বিকালে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ আব্দুর রব মল্লিক বলেন, ‘আমি সকল জরিপে এগিয়ে থাকার পরও আমার হাজার হাজার ভোট কারচুপি করে গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।’ একজন আওয়ামী লীগ নেতার ‘প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফলাফলে এমন রদবদল হয়’ বলে দাবি করেন মল্লিক।
ইউকে বাংলাদেশ ডেভেলাপমেন্টের চেয়ারম্যান, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক আইএজি সদস্য মোহাম্মদ আব্দুর রব মল্লিক উল্লেখ করেন, তিনি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন, প্রশাসন ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে ‘তার অবস্থান সবার উপরে ছিল’। জয়ের ব্যাপারেও তিনি আশাবাদী ছিলেন। আসনের ‘ভোটাররা তাকে স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন ও ভোট দিয়েছেন’। সে হিসেবে তিনি ‘বিজয়ী হওয়ার কথা’। কিন্তু ‘ভোট কারচুপির মাধ্যমে’ গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানকে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়।
মল্লিক আরো বলেন, ‘মোকাব্বির খান নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে লন্ডন চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুইদিন আগে তিনি দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নেন।’
‘প্রতিহিংসার কারণে তাকে পরাজিত করা হয়েছে’ উল্লেখ করে মল্লিক বলেন, ‘আমাকে ভোটের একদিন আগে এক আওয়ামী লীগ নেতা বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে বলেন, টাকা দিলে আমাকে বিজয়ী করা হবে। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল ফেয়ার নির্বাচন হলে আমিই বিজয়ী হবো। ১২৭টি সেন্টারে যেমন আমার এজেন্ট ছিল তেমনি ছিল শত শত ভোটার। ফলফল ঘোষণার পর আমি হতবাক হয়ে যাই। এমনকি ফলাফল শুনে গত দুইদিন ধরে শত শত মানুষ আমার বাড়িতে ভিড় করে তারাও ফলাফল মেনে নিতে পারেনি। আমি মনে করি মোকাব্বির খানকে গায়েবি ভোটে বিজয়ী করে আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোট হয়নি।’
এক প্রশ্নের জবাবে মল্লিক বলেন, ‘মোকাব্বির খানকে বিএনপি সমর্থন দিলেও বিভিন্ন স্থান থেকে সূর্য প্রতীকের অফিস বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপির কর্মীরা। ধানের শীষের পরিবর্তে সূর্যকে ভোট দিতে হবে সে সময়টুকু বোঝানের সময় পেলেন কই মোকাব্বির। অথচ বিশাল ভোট পেয়ে তিনি জয়লাভ করেন।’ তিনি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুর রব মাওলানা সৈয়দ মোছলে উদ্দিন, মাওলানা আছাব আলী, সিলেট জেলা তরুন প্রজন্ম দলের সাধারন সম্পাদক মো, সমর আলী, বাবুল চক্রবতী, ব্যাবসয়ী খালীক মিয়া, বিএনপি নেতা আজমান আলী, গয়াছ মিয়া, রুহুল আমিন, নজরুল, বাচ্চু মিয়া, আবুল, শিমু, ছাত্রদল নেতা রাজু আহমদ, জাহাঙ্গীর, কয়েছ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।