• ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে দলীয় প্রতিপক্ষের ঘরবাড়িতে ‘ছাত্রলীগের হামলা

bijoy71news
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :
জাতীয় নির্বাচন শেষের পর সিলেটে নিজদলীয় প্রতিপক্ষের ঘরবাড়িতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিলেট-৩ আসনে পুনরায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। হামলার শিকার হয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীরা। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি। তবে মনোনয়ন না পাওয়া এ নেতা পরবর্তীতে নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন না।
সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম আহমদ শাহ অভিযোগ করেছেন, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সিলেট-৩ আসনের অন্তর্ভূক্ত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নের শরীফগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তার মামা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি এবিএম কিবরিয়া ময়নুল হকের কায়স্থগ্রামের বাড়িতে, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশফাকুল ইসলাম সাব্বিরের মোগলপুরের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজান আহমদ শাহ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে কয়েকটি মোটরসাইকেলে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেয়। এছাড়া গত রবিবার দিবাগত রাত ১১টার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম আহমদ শাহ। বাবেল বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি এবিএম কিবরিয়া ময়নুল হক বলেন, ‘মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর অনুসারীরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার ভাই ও স্ত্রীকে মারধর করেছে। ঘরে থাকা স্বর্ণ, নগদ ১৮ হাজার টাকা লুট করেছে। আমার ছোট ভাইয়ের নতুন মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজান আহমদ শাহ হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার বাড়িতেও সোমবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছিল বলে তার অভিযোগ। তবে যখন হামলা হয়, তখন তিনি বাড়িতে না থাকায় কাউকে চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, ‘যতো গর্জে ততো বর্ষে না। এটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যারা হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন, তারা কারা হামলা করেছে তা বলতে পারেননি। কোন ভাঙচুর হয়েছে বলেও দেখাতে পারেননি।’