বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনার ঘড়ি সময়কে কাছে নিয়ে আসছে খুব দ্রুত। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনেও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। প্রচলিত ধারণার বাইরে এবারের নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচারণা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অর্থ খরচ করে চালানো হচ্ছে ক্যাম্পেইন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটে দেখা যায়, নিজস্ব ওয়েবসাইট, ই মেইল, ক্ষুদে বার্তার (এসএমএস) পাশাপাশি ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউবে চালানো হচ্ছে প্রচারণা। আর এসব প্রচারণায় নিজেদের দল এবং প্রার্থীদের ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধী দল ও প্রার্থীদের নেতিবাচক দিকও তুলে ধরে ভোটারদের আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রচারণায় সর্বাধিক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ফেসবুক। ৩০ ডিসেম্বরকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে ইভেন্ট পেইজও খুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থরা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন থেকে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী মহাজোট মনোনীত প্রার্থী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপিকে সমর্থন জানিয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ আসনে এখন ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করতে ঠিকে রয়েছেন ৪ জন প্রার্থী।
প্রার্থীরা হলেন- মহাজোটের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ (নৌকা), ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আজমল হোসাইন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া মিলু (মোটরগাড়ি)।
এ আসন থেকে ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও মহাজোট মনোনীত প্রার্থী তিনবারের সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা সাধারণ ভোটারদের। এ দুই প্রার্থীই তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উঠান বৈঠক, মতবিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মাঠের প্রচারণাকে ছাপিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যম।
বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে টানতেই এ কৌশলের বেছে নিয়ে প্রার্থীরা। আর ডিজিটাল প্রচারণায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও রাজনীতিতে নবীন ফয়সল আহমদ চৌধুরী এই মূহুর্তে এগিয়ে আছেন বলে অভিমত সচেতন মহলের।
জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণায় ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে ও প্রচার-প্রচারণার চিত্র ক্যাপশনসহ শেয়ার করছেন।
অন্যদিকে, ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি দুই উপজেলার মোবাইলে মোবাইলে ‘ফয়সাল ভাইয়ের সালাম নিন ধানের শীষে ভোট দিন’- লিখে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন ভোটারদের। তার পাঠানো এ ক্ষুদে বার্তা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভোটারদের মনে।
এছাড়াও তিনি নিজের নামের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতিমূলক ক্যাপশন লিখে প্রচার-প্রচারণার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনের প্রচার-প্রচারণার শিডিউল প্রকাশ ডিজিটাল প্রচারণায় এনেছে ভিন্নমাত্রা। এ আসনের প্রার্থীরা ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে নির্বাচনী এলাকায় মাইকিংয়ে প্রতিশ্রুতিমূলক শ্লোগান ও বাহারি ঢঙের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়েও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কড়া নাড়ছে দুয়ারে। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম পুরো নির্বাচনী এলাকা। বিজ্ঞানের কল্যাণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে ডিজিটাল প্রচারণায় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। নির্বাচনী গণসংযোগ, পথসভার পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভর প্রচারণা নির্বাচনে এনে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। এ সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায়ও লেগেছে তারই ছোঁয়া।
এই দুই প্রার্থীই তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তবে মাঠের প্রচারণা ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ডিজিটাল প্রচারণা। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে টানতে এ কৌশলের দিকে ঝুঁকছেন প্রার্থীরা। আর ডিজিটাল প্রচারণায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও রাজনীতিতে নবীন ফয়সল আহমদ চৌধুরী এই মূহুর্তে এগিয়ে আছেন বলে অভিমত সচেতন মহলের।
ফয়ছল চৌধুরী সমর্থক ও ছাত্রনেতা ফয়েজ আহমেদ বলেন, প্রচলিত প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও আমাদের সর্বস্তরের নেতা কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে সরব প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাড়ি গিয়ে প্রচার-প্রচারণা করতে গেলে গ্রেপ্তার আতংকসহ অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদের নেতা কর্মীদের নির্বাচনী পোষ্টার লাগাতে বাধা দেয়া হয় বিভিন্ন স্থানে। তাই আমরা সামাজিক মাধ্যমে আমাদের প্রার্থীও পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।
ছাত্রলীগ নেতা কাওছার আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে এগিয়ে যাচ্ছে। সব বিভাগে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে থাকলে দেশে উন্নত দেশের মত অনলাইনে ভোটসহ সব ক্ষেত্রে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগবে। আমাদের দেশের মানুষ এখন সচেতন। তাই আমাদের দলের পক্ষ থেকে সিলেট-৬ আসনের নৌকার মাঝি নাহিদ ভাইয়ের প্রচার-প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে করে আমার সিলেট-৬ আসনের মানুষকে বুঝাতে চাচ্ছি যে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকার বার বার দরকার।