বি৭১নি ডেস্ক :
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে আচরণবিধি লঙ্গণ করে লাঙ্গল প্রতিকের কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
মিছিলে সিলেট-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
বেলা পৌনে একটার দিকে উপজেলার গোয়ালাবাজার থেকে মহা সড়কে মিছিলটি শুরু হয়ে বেলা দেড়টার দিকে তাজপুর কদমতলা এলাকায় এসে সমাবেশ করা হয়।
মিছিল চলাকালে মহা সড়কের দুই পাশে প্রায় ৪৫ মিনিট দূর পাল্লার গাড়ীসহ সব ধরণের যানবাহনগুলো আটকা পড়ে। এতে রোগীবাহি এ্যাম্বুলেন্সসহ যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তবে এহিয়া চৌধুরী মহাজোটের প্রার্থী হলেও ওই মিছিল ও সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।
অটোরিকসা চালক ফরিদ মিয়া বলেন, নির্বাচন এলেই সকল প্রার্থীদের পক্ষে শ্লোগান দেয়া ‘ন্যায়ের প্রত্যাশী অন্যায়ের প্রতিবাদি’ কিন্তু এভাবে মহাসড়কে গাড়ী আটকিয়ে মিছিল করাটা কতটুকু ন্যায় সঙ্গত। গোয়ালা বাজার থেকে তাজপুর আসতে ৫ মিনিটে সময় লাগে, কিন্তু মিছিলের পিছেনে পড়ে তাজপুর আসতে আমার আধা ঘন্টা লেগেছে।
হবিগঞ্জ থেকে সিলেট শহরমুখী রোগীবাহি এ্যাম্বুলেন্সের চালক ইব্রাহীম আলী বলেন, গাড়ীতে মুমুর্ষ রোগী আছেন, তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু মিছিলের জন্য সামনে এগুতে পারছিনা। সাইরেণ বাজালেও মিছিলে থাকা লোকজন আমাকে ধমক দিয়ে গাড়ী আটকিয়ে দিচ্ছেন।
এসময় এ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে রোগীর স্বজনরা আহাজারী করতেও দেখা গেছে। মহাসড়কের এ অংশের বিভিন্ন স্ট্যান্ডের চালকরা ক্ষোভের সুরে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে দিনের অধিকাংশ সময় মহাসড়ক দখল করে প্রার্থীদের লোকজন মোটর সাইকেল শোডাউনসহ মিছিল ও সমাবেশ করে আসছেন। এতে যাত্রী সাধারণসহ আমাদেরকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাজপুর বাজারে মহাজোটের প্রার্থী এহিয়া চৌধুরীর লাঙ্গল প্রতিক ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুনতাছির আলীর দেয়ালঘড়ি প্রতিকের সমর্থকেরা মহাসড়কে মুখোমুখী অবস্থান নিয়ে মিছিল করেন। এতে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্দের পর সিলেট-২ আসনের প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্গনের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে। মহাসড়ককে তারা নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রস্থল হিসেবে বেচে নিয়েছেন। নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিদিনই আচরণবিধি লঙ্গণ করে মহাসড়কে নির্বাচনী মিছিল, সভা, সমাবেশ ও র্যালি করে আসছেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টতই বলা হয়েছে- ‘রাস্তাঘাট বন্ধ করে প্রচার সভা, মিছিল ও র্যালি করা যাবেনা’। কিন্তু ওসমানীনগরে এর ব্যাতিক্রম চিত্র দেখা যাচ্ছে। এভাবে প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্গণ করা হলেও ওসমানীনগরে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তারা নিরব রয়েছেন বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।
এবিষয়ে সিলেট-২ আসনে আওয়ামীলী ঘরানার ‘ডাব’ প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান বলেন, লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী এহিয়া চৌধুরী নির্বাচনী মাঠে নেমেই একর পর এক আচরণবিধি লঙ্গণ করেই যাচ্ছেন। বরিবার তিনি মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে আমি ইসি’র প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, আমি মহাসড়কে মিছিল করিনি, গণসংযোগ করেছি। সব প্রার্থীরাইতো মহাসড়কের ওপর দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন এখানে আচরণবিধি লঙ্গণের কি হলো।
মহাসড়কে গাড়ী আটকিয়ে প্রার্থীর মিছিল এটা আচরণবিধি লঙ্গণ কি না তা জানতে চাইলে সহকারী রিটানিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা ওসমানীনগরের ইউএনও মো: আনিছুর রহমান নিজের দায় এড়িয়ে তিনি বলেন, এবিষয়গুলো ওসি সাহেব দেখবেন, উনাকে ফোন কল দেন।
এ সময় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গণের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও সেগুলোর জন্যই ওসিকে ফোন দিয়ে জানেন বলে তিনি।