বি৭১নি ডেস্ক ::
পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশসহ সীমান্তের দুই দেশের মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে পঞ্চগড় পুলিশের দুই সদস্যসহ মোট চারজনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। ওই মামলায় আজ মঙ্গলবার পঞ্চগড় পুলিশ লাইনে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন (৪০) ও কনস্টেবল ওমর ফারুককে (২৪) গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতেই দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছে ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মোমিনপাড়া এলাকার মাদকব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম (৪৫) ও মাসুদ। তবে মাসুদের ঠিকানা ও পরিচয় নেই এজাহারে উল্লেখ নেই।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় পুলিশ লাইনে কর্মরত এএসআই মোশারফ হোসেন, কনস্টেবল ওমর ফারুক ও মাসুদ নামের এক ব্যক্তিসহ রোববার রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা মোমিনপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকব্যবসায়ী আমিরুলের সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ভারতের সিপাইপাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ভুট্টুর বাড়িতে যায়। সেখানে কোনো বিষয় নিয়ে ভুট্টুর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য ভুট্টুর হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নিয়ে আসতে চাইলে ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করে।
এ সময় তারা পুলিশ সদস্য ওমর ফারুককে আটক করে মারধর করে। বাকিরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে পাশ্ববর্তী চানাকিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। রাতেই পুলিশ হাড়িভাসার টেনশন মার্কেট থেকে পুলিশ সদস্য ওমর ফারুকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ওমর ফারুককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত এনে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিজিবি। অন্যদিকে আগে থেকেই পুলিশের নজরবন্দী ছিলেন এএসআই মোশারফ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে ওই দুই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সীমান্তের মাদকব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা মাঝে-মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত করতেন।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন বলেন, ‘পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের সাথে মাদকব্যবসায়ীদের যোগাযোগ ছিল। পুলিশ সদস্য মোশারফ হোসেন ও ওমর ফারুককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ’