• ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

জরিমানা করায় ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করলেন ব্যবসায়ীরা

bijoy71news
প্রকাশিত মে ৩০, ২০১৯

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজার শহরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানের সময় জরিমানা আদায় করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচলক মো. আল-আমিন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে শহরেরে এম সাইফুর রহমান রোডের বিলাশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন ঈদকে সামনে রেখে ভেজাল পণ্য, পণ্যের দাম ও মান যাচাই করতে অভিযানে বের হন। এতে তিনি খাদ্য তৈরীর কারখানা পরিচ্ছন্ন না থাকায় রাজমহলকে ৩০ হাজার টাকা ও ৭’ টাকার দেশী প্যান্ট দুই হাজার ৪ শ টাকা বিক্রির দায়ে সেন্ট্রাল রোডস্থ একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এরপর তিনি এমিবি আলটিমেট শপে পণ্যের অতিরিক্ত দাম রাখা, বিদেশী পণ্যের নামে ভেজাল পন্য বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এসময় সেখানে মৌলভীবাজার বিজনেস ফোরামের নেতৃবৃন্দ’র উপস্থিতিতে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন।
পরে সেখান থেকে বের হয়ে পাশের সুপার সপ দবিলাশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে অভিযান পরিচালনা করে একই কারণে প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি। এসময় বিলাশের অন্যতম মালিক সোহাদ আহমদ জরিমানা দিতে আস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে ভোক্তার সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিনের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান তিনি। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা তার উপর হামলা চালান।
এসময় শারীরিক ভাবে তাকে লাঞ্ছিত করে ব্যবসায়ীরা পাশের একটি দোকানে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে বিলাশসহ আশপাশের দোকানের মালিক-কর্মচারিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে রাখলে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুরিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম ঘটনাস্থেলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, বিলাশ পন্যের মূল দামের উপর টেম্পারিং করে অতিরিক্ত দাম রাখছে। বিদেশী পন্যের নামে ভেজাল পন্য দিয়ে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে এমন প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করি। কিন্তু তিনি তা প্রদান না করে আমার উপর কর্মচারি লেলিয় সরকারী কাজে বাধা ও আমাকে লাঞ্ছিত করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে বিলাশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক সুমন আহমদ বলেন, সারা বছর ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা ঘরে বসে থাকেন। আর রমজান ও ঈদে যখন আমাদের ব্যবসা জমে ওঠে তখন তারা এসে অভিযানের নামে আমাদের হয়রানি করেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা উনার প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এদিকে এঘটনার সময় ব্যবসায়ীদের সংগঠন মৌলভীবাজার বিজনেস ফোরামের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিতি থেকে এই ঘটনার ইন্দন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিজনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাহাদাত হোসেন তা অস্বীকার করে বলেন, অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছিল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক। আজ ব্যবসায়ীরা তার উপরে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। এসময় আমরা তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেই। কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি জুয়েলারি দোকানে আটক অবস্থা থেকে মো. আল-আমিনকে উদ্ধার করি। এখন সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।