নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঈদ আসতে এখনো বাকী আছে কিছুটা। তবে সিলেট নগরীতে লাগতে ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। শপিং মলে বর্ণিল আলোক সজ্জ্বা, সড়কে যানজট আর মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় জানান দিচ্ছে- ইধ আসছে। ঈদের দিনের প্রথম কাজই হলো নামাজ আদায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য তাই শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানকে প্রস্তুত করার কাজ। বরাবরের মতো এই ময়দানেই হবে সিলেটের প্রধান ঈদ জামায়াত। এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সিলেটের রাজনিতিক ব্যক্তিত্বসহ সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এক কাতারে নামাজ আদায় করবেন ঐতিহাসিক এ ঈদগাহে।
ইতোমধ্যে শাহী ঈদগাহ ময়দান পরিচ্ছন্নসহ জামাতের জন্য প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নূজা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শাহী ঈদগাহ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক মিলে শাহী ঈদগাহ পরিচ্ছন্নের কাজ করছেন। ঘাস পরিষ্কার ও গাছের ডালপালা ছাটাইয়ের কাজ করছেন তারা। এরপর রং করা হকে এ ময়দানে।
কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন বলেন, আমরা শাহী ঈদগাহ ময়দানের সংস্কার কাজ পাওয়ার সাথে সাথেই লোকবল নিয়োগ দিয়ে কাজে লেগে গেছি। আমরা পুরো ঈদগাহ ময়দান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ রং, গাছপালা ছাঁটাই ও বিভিন্ন সংস্কার কাজ করছি। ঈদের জামাতে লক্ষাধিক মুসল্লী নামাজ আদায়ের জন্য এই ময়দান প্রস্তুত করা হবে।
সিলেটের এ শাহী ঈদগাহ বহন করছে কয়েক শত বছরের ঐতিহ্য। উপমহাদেশের প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্বাক্ষী এই শাহী ঈদগাহ। দেশের প্রাচীনতম ঈদগাহ হিসেবেও পরিচিত এটি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় প্রতি বছর লাখো মানুষের সমাগম হয় ঈদগাহ ময়দানে। ঈদের নামাজ আদায় করেন তারা।
উইকিপিডিয়া ও সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই ঘেঁটে সিলেটের শাহী ঈদগাহ সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো, সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্যের এ নিদর্শন। মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে মনোমুগ্ধকর কারুকার্যময় এ ঈদগাহটি মোগল ফৌজদার ফরহাদ খাঁ নির্মাণ করেন। এখানে একসঙ্গে প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।
আরো জানা যায়, এখানেই হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে ইংরেজ বিরোধী প্রথম অভ্যুত্থান হয়। ভারতের অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের মতো নেতারা এখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। অতীতে সিলেটের বড় বড় সমাবেশের স্থানও ছিল একমাত্র এটি।