• ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নৌকায় তোলার আগে লিবিয়ায় বন্দি করে রাখা হয়েছিলো তাদের

bijoy71news
প্রকাশিত মে ১৩, ২০১৯

 

                       ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহতদের মধ্যে ৪জন ফেঞ্চুগঞ্জের

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি :
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ফেঞ্চুগঞ্জের চার যুবককে দাললরা প্রথমে সিলেট থেকে চট্রগ্রাম পাঠায়। সেখান থেকে ভারত। ভারতের বেশ কয়েক রাজ্যে ঘুরিয়ে তাদের পাঠানো হয় শ্রীলংকা। সেখান থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া লিবিয়ায়। লিবিয়ায় জঙ্গলের মধ্যে ছোট্টর একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয় তারাসহ আর ৮০ জন লোককে। সেখানে চলে তাদের উপর মানবেতর জীবন যাপন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার তিউনেশিয়া উপকূলে নৌকা ডুবিতে ফেঞ্চুগঞ্জের যে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন তারা উপজেলার ৪ নং উওর কুশিয়ারা ইউনিয়নের মুহিদপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত বেলাল আহমদ, আব্দুল আজিজ, আহমদ হােসন ও লিটন মিয়া সম্পর্কে চাচা ভাতিজা ও ভাগনা।
সরজমিনে রবিবার সকালে মুহিদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শোকের মাতম চলছে এলাকায়। দলে দলে মানুষজন আসছেন নিহতদের বাড়িতে।
পরিবারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত ডিসেম্বর ২০১৮ সনের প্রথম সপ্তাহে তারা সিলেট রাজা ম্যানশনের এহিয়া ট্রাভেলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইতালি পৌছানোর কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে নেয়।
এহিয়া ট্র্যাভেলসের সত্ত্বাধিকারী এনাম আহমদ ইতালি পাঠানোর কথা বলে তাদেরকে প্রথমে চট্রগ্রাম, সেখান থেকে ভারত পাঠায়। ভারতের বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরিয়ে তাদের পাঠানো হয় শ্রীলংকা। শ্রীলংকা থেকে তাদের নিয়ে যায় লিবিয়ায়। লিবিয়ায় জঙ্গলের মধ্যে ছোট্টর একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয় তারাসহ আর ৮০ জন লোককে। সেখানে চলে তাদের উপর মানবেতর জীবন যাপন।
নিহত আব্দুল আজিজের পিতা ও বেলাল আহমদের ভাই হারূন মিয়া বলেন, কথাছিল আমার ছেলে, ভাই, ভাতিজা, ভাগনা সবাই এক সাথে লিবিয়া থেকে বড় জাহাজে করে পাঠাবে এবং সেই মোতাবেক এজেন্সির সাথে চুক্তি হয়।
তিনি বলেন, চুক্তিমোতাবেক এজেন্সি কোন কথা রাখেনি। তাদেরকে খানাপিনা দেওয়া হয়নি। লিবিয়ায় তাদের উপর চলে মানসিক নির্যাতন। তিন দিনে ৮৬ জনকে এক বেলা খাবার দেওয়া হতো, তাও মাত্র ১২ কেজি চাল।
হারুন মিয়া বলেন, আমরা বারবার ইয়াহইয়া ট্রাভেলসের স্বতাধীকারী এনামের সাথে যোগাযোগ করি। এনাম সবকিছু দেখছেন, খোঁজখবর রাখছেন বলে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল মিলেনি।
হারুন মিয়া আরও বলেন, তাদগের খাবার দেওয়ার জন্য এনাম আহমদকে আরও সোয়া লক্ষ
টাকা দেই। তারপরও আমার ছেলেদের খাবার দেয়নি।
মোবাইল ফোন কেনার জন্যও কয়েকদিন আগে ছেলেকে টাকা পাঠান বলে জানান হারুন।
এভাবে কেটে যায় পাঁচ মাস। পাঁচ মাস পর গত বৃহস্পতিবার হারুন মিয়া জানতে পারেন নৌকা করে তার ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ইতালির পথে ছেড়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এ খবর শোনামাত্র মনে হল আমার পা চলছে না।
একি অবস্থা বাড়ির সিরাজ মিয়ার ঘরে। সেখানেও চলছে শোকের মাতম। সিরাজ মিয়া বলেন, এনাম আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। যেভাবে কথা ছিল সেভাবে কথা রাখেনি।
ওই দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান হারূন মিয়ার ভাই বেলাল আহমদ। তিনিই বেঁচে গিয়ে ফোনে অন্যদের মারা যাওয়ার খবর জানান।
এছাড়া, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মানিকোনা হাওরতলার গ্রামের আফজাল একই দুর্ঘটনায় মারা যান বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে সিলেট নগরীর এহিয়া ট্র্যাভেলসের সত্ত্বাধিকারী এনাম আহমদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর ট্র্যাভলেসটি রোববার দিনভর তালাবদ্ধ ছিলো।