• ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বালাগঞ্জে ফলাফল বিপর্যয়

bijoy71news
প্রকাশিত মে ৭, ২০১৯

এসএসসি ২০১৯বালাগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিলেটের বালাগঞ্জে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরিক্ষার ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহকারীদের মধ্যে পাসকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। ফলাফলের এমন বিপর্যয়ে পুরো উপজেলা জুড়ে হতাশা বিরাজ করছে। ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বালাগঞ্জের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্তৃপক্ষ।
বালাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফলাফল শীট পর্যবেক্ষন পাওয়া যায়, ফলাফলে উপজেলার শীর্ষে অবস্থানকারী দেওয়ান আব্দুর রহিম উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৮৪.১৭%। বিদ্যালয়টি থেকে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল মোট ১৫৮ জন পরীক্ষার্থী, এর মধ্য থেকে মোট পাস করেছে ১৩৩ জন ও এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ জন পরিক্ষার্থী। ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা কালীগঞ্জ এম ইলিয়াস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৪০.৬৭%। বিদ্যালয়টি থেকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১৮ জন, পাস করেছে ৪৮ জন।
এছাড়াও উপজেলার বোয়ালজুড় বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৪৭.৭২%। মোট ১৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৬৩ জন। তয়রুননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৬২.৫%। মোট ৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৫০ জন পরীক্ষার্থী। চান্দাইরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৩.৭০%। মোট ১০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৫৮ জন এবং ৩টি এ প্লাস এসেছে। বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৩.০৮%। মোট ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৪৩ জন। পূর্বগৌরিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৭১.২১%। মোট ৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৪৭ জন। মুসলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৮.২৭। মোট ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৮৮ জন। বালাগঞ্জ ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৬২.৭৮%। মোট ২২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছেন ১৪০ জন। গালিম পুর হুরুননেছা খানম উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫৫.২৬%। মোট ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে ৪২ জন পাস করেছে। আজিজ পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৬৫.৪৩%। মোট ৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৫৩ জন এবং ৩টি এ প্লাস এসেছে। মৈশাষী অষ্টগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৪১.১৭%। মোট ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ১৪ জন। ছমিরুন নেছা নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের হার ৬৯.২৩%। মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ৩৬ জন। গহরপুর আব্দুল মতিন মহিলা একাডেমীর পাসের হার ৮৩.৩৩%। মোট ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ২৫ জন। বানীগাও মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৪৮%। মোট ৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে পাস করেছে ২৪ জন।
উপজেলার এ ফলাফলে সন্তুষ্ট নন বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব। তিনি বলেন, এ রকম রেজাল্টে আমি সন্তুষ্ট নয়। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন শুরু করেছি।
বালাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ রেজাল্ট সন্তুষ জনক নয়। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক প্রচেষ্টাই পারে বালাগঞ্জ উপজেলায় একটি ভালো ফলাফল এনে দিতে। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে অভিভাবকদের, তার সন্তান বাড়িতে ঠিক মতো হোমওয়ার্ক করছে কি না তা অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।