নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট শহরতলির মেজরটিলার ইসলামপুরে সুহেল মিয়া নামের এক যুবকের আত্মহত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার। ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী তাসলিমা, পিতা আব্দুল লতিফ ও মাতা রিমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা। সুহেলের মৃত্যুকে রহস্যজনক উল্লেখ করে তাকে হত্যা করা হয়েভে বলে সন্দেহ করছেন তারা। এ ব্যাপারে মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ছেলেকে হত্যা করা হতে পারে-এমন ধারণার বিষয়টি সুহেলের বাবা লতিফ পুলিশকে শুরুতেই অবগতও করেন। কিন্তু পুলিশ প্রাথমিক ধারণা থেকে আত্মহত্যার ঘটনায় ইউডি মামলা নেয়। এখন অপেক্ষা করছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের।
প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শাহপরান থানার এসআই এনায়েত জানিয়েছেন।
জানা গেছে, দক্ষিণ ইসলামপুর মুসলিম নগরের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে সুহেল মিয়া ইসলামপুর টেক্সটাইল মিলস এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। দুই কন্যা সন্তানের জনক পেশায় মাছ বাজারের শ্রমিক সুহেল ১১ এপ্রিল বিকালে তার নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন বলে জানতে পারেন তার পরিবার। খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের তীরের সাথে নিজের শার্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো লাশ উদ্ধার করে। লাশের পা মাটি থেকে সামান্য উপড়ে ছিল এবং পাশে খাট ও চেয়ার রাখা ছিল। পরদিন লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। কিন্তু শুরু থেকে আত্মহত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার।
সুহেলের পিতা আব্দুল লতিফ জানান, তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। তার ছেলে ইসলামপুর বাজারে মাছ কাটতো। স্থানীয় এক যুবকের সাথে তার ভাব ছিল। ঘটনার পর তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
আত্মহত্যার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, সুহেলের ঘরের সাথে আরও ঘর রয়েছে। ঘটনার সময় কেউ কি টের পেল না? তার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ওইদিন তার স্ত্রী তাসলিমা পিতার বাড়ি থেকে ফিরে বাসার দরজা বন্ধ দেখেন। এর আগে পার্শবর্তী বাসিন্দারা দরজা খোলার চেষ্টা করেন বলে তারা জানিয়েছেন। কিন্তু সুহেলের মা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। এসব কারণে আমরা ধারণা করছি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
শাহপরান থানার এসআই তদন্তকারী কর্মকর্তা এনায়েত জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছে সুহেল আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।