• ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালে ভাংচুর

bijoy71news
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০১৯

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন রোগীর স্বজনেরা। এসময় তারা হাসপাতালের মূল্যবান জিনিসপত্রও ভাংচুর করে।
হামলায় হাসপাতালের নার্সসহ কয়েকজন আহত হলেও বাকীরা নিরাপদে গিয়ে রক্ষা পান।
খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এঘটনায় বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও রোগীর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২ এপ্রিল মাথিউরা ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন (৬৫) শ্বাসকষ্ট রোগ নিয়ে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান। রোগীর মৃত্যুও জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী রোগীর পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। তাদের দাবি, এই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসকও নেই, ভালো চিকিৎসাও নেই। তারা রোগীদের কোন চিকিৎসাই দিতে পারে না। আজিম উদ্দিনকেও ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে না পারায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন, এমন অভিযোগ রোগীর পরিবারের।
এব্যপারে আজিম উদ্দিনের জামাতা যুবলীগ নেতা আব্দুল ওয়াহিদ টিপু বলেন, ২ এপ্রিল তার শ্বশুড়কে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করান।
আজিম উদ্দিন শ্বাসকষ্টে ভূগছিলেন উল্লেখ করে টিপু বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভালো চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে ভর্তি করান। কিন্তু তারা তাকে চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন।
টিপু অভিযোগ করে বলেন, তার শ্বশুড় চিকিৎসা নেয়ার সময়ে তার নজরে আসে এই হাসপাতালে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। তাই তিনি এই হাসপাতাল থেকে তার শশুড়কে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র চান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে ভালো চিকিৎসক এসেছেন এ তথ্য দিয়ে তাকে জানান, তারা ওই চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র দিয়েই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ যে চিকিৎসক দিয়ে তার শশুড়কে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তিনি এই রোগের চিকিৎসক নয় তিনি শিশু রোগ চিকিৎসক। যার কারণে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শ্বশুড়ের মৃত্যু হয়েছে।
এবিষয়ে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কবির উদ্দিন বলেন, “গত ২ এপ্রিল তিনি আজিম উদ্দিনকে এই হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তিনি বলেন, ভর্তিকালীন সময়ে রোগীর অবস্থা ভালো ছিলনা। তারপরও রোগীর আত্মীয় স্বজনের চাপে তাকে এখানে ভর্তি করা হয় এবং তিনি রোগীকে চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ছুটিতে চলে যান। পরে ঢাকা থেকে আসা একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ তার ব্যবস্থাপত্র দেখে তিনিও কিছু ঔষধ যুক্ত করে দেন।
তিনি বলেন, গত রাতে রোগীর অবস্থা ভালো দেখলে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তুু রোগীর আত্মীয় স্বজনেরা নিয়ে যান নি। সকালে যখন রোগীর অবস্থা খারাপ হয় তখন আমরা ওসমানীতে রেফার্ড করি। কিন্তুু কেউ তাকে ওসমানীতে নিয়ে যাননি। তাই রোগী এই হাসপাতালে মারা যান।
ডা. কবিরের মতে, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালে কোন রোগীকে জরুরী সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নাই। এ রকম কোন সামগ্রীও এখানে নেই। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সরঞ্জাম দিয়েই তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ অবস্থায় এখানে রোগী কেন ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছেন এ প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেন নাই।
এ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর জানান, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর খবর শুনে তিনি এখানে এসেছেন।
তিনি তাদের ব্যবস্থাপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানান, এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, সঠিক চিকিৎসার অভাবে আজিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। মেয়র অভিযোগ করে বলেন, একটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমান চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসক না থাকার পরও কিভাবে এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
মেয়রের মতে, প্রবাসীদের অর্থে পরিচালিত এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রচুর ফারাক রয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। এদিকে হাসপাতালে হামলা ও ভাংচুরের খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র ছাড়াও মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিহাব উদ্দিন, ওসি অবনী শংকর করসহ অনেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
এঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবনী শংকর কর। তিনি বলেন, হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড একটি অভিযোগ এনে দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। তবে এঘটনায় রোগীর আত্মীয়স্বজন কেউ কোন অভিযোগ দেননি বলে তিনি জানান।