• ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

হুমকিতে ৫ বছর সিলেট ছাড়া, ফেরার পর ফের ভাস্কর জালালকে হুমকি

bijoy71news
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০১৯

বি৭১নি ডেস্ক :
দীর্ঘদিন প্রাণভয়ে পালিয়ে থাকার পর সিলেটে ফিরেই আবারও প্রাণনাশের হুমকি পেলেন ভাস্কর্য শিল্পী জালাল উদ্দিন সরকার। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গত সোমবার রাতে আব্দুল কাদির মুন্না নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসআই প্রদীপ শর্ম্মা বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জালাল উদ্দিনের অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে রেকর্ডের আগে তদন্ত করছি। অতীতে প্রাণনাশের ঘটনায় জিডি হওয়ায় পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি। অভিযুক্ত আব্দুল কাদির মুন্নার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি পুলিশের কাছে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভাস্কর জালাল উদ্দিন বলেন, প্রায় সাত বছর আগে একই চক্রের হুমকিতে সিলেট নগরী ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাযাবরের মত জীবনযাপন করছিলেন। ২০১২ সালের মার্চ মাসে প্রাণনাশের হুমকির পর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তিনি। সেই সময় পুলিশ কয়েকদিন নিরাপত্তার খোঁজখবর নিলেও হুমকিদাতাদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি বা আইনগত কোন পদক্ষেপ নেয়নি। একপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতায় বাধ্য হয়ে তিনি সিলেট ছাড়েন। কয়েক মাস আগে সিলেটে ফিরে নগরীর সুবহানীঘাট এলাকায় বসবাস শুরুর পর নতুন করেই পুরাতন চক্র তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভাস্কর জালাল উদ্দিন জানান, সেই সময় হুমকিদাতাদের নাম জানতেন না। এখন একজনের নাম জানলেও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানেন না।
তিনি বলেন, বাঁশ, কাঠ, সিমেন্ট ও পাথর দিয়ে ভাস্কর্য বানাই। এগুলোকে ইসলাম বিরোধী আখ্যায়িত করে এই চক্র বারে বারে হুমকি দিয়ে আসছে। এবারে তিনি যে বাসায় ভাড়া থাকেন, সেই বাসার মালিককেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত আব্দুল কাদির এসে, তাকে বাসা থেকে বের করে না দিলে বাসার মালিকের ক্ষতি হবে বলে হুমকি দিয়ে গেছেন। এছাড়া ভাস্কর্য বানানো বন্ধ না করলে জালাল উদ্দিনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কামরুল হাসান পুরষ্কারে ভূষিত ভাস্কর জালাল উদ্দিন ২০১২, ১৪ ও ২০১৮ সালে এশীয় চারুকলা প্রদর্শণীতে অংশ নিয়ে প্রশংসিত হন। এছাড়া ২০১১ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিনদিন ও ২০১৪ সালে জেলা পুলিশ লাইনের সৈয়দ মুজতবা আলী মিলনায়তনে দু’দিনব্যাপী একক ভাস্কর্য প্রদর্শণীর আয়োজন করেন।
ভাস্কর জালাল উদ্দিন বলেন, সিলেটে আমার ভাস্কর্য নিয়েই প্রথম একক প্রদর্শণী হয়। দেশের শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এই শিল্পের বিকাশ প্রয়োজন। ভাস্কর্য শিল্পের উপর হুমকিদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এজন্য তিনি সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।