• ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কৃত্রিম পানি সংকটে ১০ হেক্টর ফসলি জমিতে আবাদ বন্ধ

bijoy71news
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩০, ২০১৯

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পানি অভাবে প্রায় দশ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপন করতে পারছেন না কৃষকরা। পানির অভাবে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির, নেই তৃণভোজী পশুদের জন্য সবুজ ঘাস, চারিদিকে ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে ফসলের মাঠ।
এর কারণ হিসেবে অনুসন্ধানে উঠে আসে জাগছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির চালনাধীন সরকারীভাবে নির্মিত স্নুইস গেইট দিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ করে রাখার কারণ। এদিকে পানির সংকটে চাষাবাদ করতে না পারায় উপজেলার ইছবপুর এলাকার হাইল হাওর সংলগ্ন ফসলীর জমির কৃষকরা মাঠে বসেই বিলাপ করছেন।
কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, প্রতিবছর পৌষ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত বোরো মৌসুমে সুইচ গেইটের পানির মাধ্যমে আমরা কাজ করে থাকি। হঠাৎ করে এ বছর পানি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন টাকা (চাঁদা) না দেওয়ার অজুহাত তুলে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক।
তিনি আরো বলেন, সমিতির কতিপয় ব্যক্তিদের মিথ্যাচার ও একগুঁয়েমীর কারনে পানির অভাবে বোরো চাষের মৌসুম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ না হলে আমাদের ফসলের বীজতলাসহ পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পানি না থাকার কারণে ফসল ফলাতে না পারায় আমরা না খেয়ে থাকতে হবে। তার চেয়ে বড় কথা সামগ্রিকভাবে ধানচাষে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, কৃষকদের বীজতলা ও ফসলের মাঠে পানি না থাকলে চাষাবাদ হবে না। এতে ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন মাথাব্যথা নেই। তারা একর প্রতি ৪শ টাকা করে না দিলে কৃষকদের পানি দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আমরা ৫০ জন কৃষক অভিযোগ জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি। এছাড়া এখানে প্রভাবশালী বালু ও মাটি ব্যবসায়ীরা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের সাথে সমঝোতা করে এই কাজ করেছে। কারণ ধানক্ষেতে পানি দিলে কৃষকরা ক্ষেতে ফসল ফলায়। ফসল ফলালে তারা খেত থেকে মাটি ও ছড়া থেকে বালু তুলতে পারে না।
শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান মিয়া বলেন, গতবছর এই এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে আমি প্রায় বিশ হাজার টাকা চাঁদা তুলে সুইচ গেইট সমিতির কাছে দিয়েছিলাম। এবার নানা অজুহাতে পানি দেওয়া বন্ধ রেখেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা কৃষকদের নিয়ে সুইচ গেইট সমিতির সাথে সংলাপে বসার কথা বলছি, তারা সময় দিচ্ছে না। এদিকে পানি না থাকায় কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না।
এব্যপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, পানি বন্ধ করার এখতিয়ার নেই সমিতির কোন কর্তা- ব্যাক্তির। আমার উপ-সহকারীর মাধ্যমে কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের সাথে বসার জন্য একটি তারিখ চেয়েছি। সমস্যাগুলো জানার জন্য আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে নিয়ে একসাথে বসতে চাচ্ছি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা আমার কাছে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আমি এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।