• ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আতিয়া মহলের জঙ্গি হামলার মামলায় তদন্তের প্রথম দৃশ্যমান উন্নতি

bijoy71news
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট নগরীর শিববাড়ির আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরবর্তী দায়ের করা মামলায় এই প্রথম আসামী হিসেবে তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) জহুরুল হক, আর্জিনা বেগম ও হাসান নামের এই তিন আসামীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেট মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ সিদ্দিকী। এই তিনজনই পূর্বে বিভিন্ন জঙ্গি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তার আগে বুধবার এ তিনজনকে ওই মামলার গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০১৭ সালের ২৪ মার্চ থেকে আতিয়া মহলে শুরু হওয়া জঙ্গি অভিযান চলে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। এ অভিযানে আতিয়া মহলের অভ্যন্তরে থাকা চার জঙ্গিই নিহত হয়। অভিযান চলাকালীন সময়ে ২৫মার্চ সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের মাত্র ৪০০গজ দুরে দুটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়ে নিহত হন সাতজন।
এ সকল ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে। যা একই বছরের মে মাসের ১৩ তারিখ থেকে তদন্ত করছে পিবিআই।
পিবিআই সিলেটের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান জানান, এ দুটি মামলাতে এতদিন দৃশ্যত কোন অগ্রগতি না থাকলেও এটিই প্রথম অগ্রগতি।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার জহুরুল হক, আতিয়া মহলে জঙ্গি অভিযানে নিহত জঙ্গি মনজিয়ারা বেগম ওরফে মর্জিনা বেগমের ভাই এবং আর্জিনা বেগম জহুরুল হকের স্ত্রী। এই দুজনই চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড জঙ্গি আস্তানার মামলার আসামী। এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত হাসান চান্দিনা ও মীরেরসরাই জঙ্গি মামলার আসামী।
এ তিনজনকেই আতিয়া মহলের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পর দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তবে অপর মামলায় এখনো কোন গ্রেপ্তার নেই বলেও জানান পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, প্রায় দুইমাস আগে তাদেরকে এ মামলায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আবেদন করে পিবিআই যা চট্টগ্রাম হয়ে সিলেট আদালতে আসে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আমরা ধারণা করছি।
২০১৭ সালের ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকা আতিয়া মহল নামের একটি পাঁচতলা ভবনে জঙ্গি আস্তানা রয়েছে খবর পেয়ে ভবনটি ঘেরাও করে পুলিশ। পরদিন ২৪ মার্চ সারাদিন র‍্যাব, পুলিশ ও সোয়াতের অবস্থান শেষে ২৫মার্চ সকাল থেকে “অপারেশন টোয়াইলাইট” শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২৮ মার্চ পর্যন্ত চলা এ অভিযান শেষে ভবন থেকে চার জঙ্গির মৃতদেহ এবং বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে অভিযান চলাকালীন সময়ে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের কিছুদুরে আধাঘন্টার ব্যবধানে পরপর দুটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয় যাতে তৎকালীন র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ৪জন সাধারণ মানুষ নিহত হন।