জুড়ী প্রতিনিধি :
জুড়ীতে মাদকসহ পুলিশের হাতে আটকের পর অসুস্থ হয়ে মাদকাসক্ত জাহিদ নামে একজনের মৃত্যু ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি শনিবার রাতে উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নে ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুড়ী থানার ওসির নেতৃত্বে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০মিনিটে উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মৃত বশির মিয়ার মাদকাসক্ত পুত্র জাহিদ মিয়াকে (৪০) ফুলতলা বাজার থেকে আটক করা হয়। পরে তার বাসায় নিয়ে গেলে সেখান থেকে ৪ বোতল ফেনসিডিল, ৩ বোতল ভারতীয় মদ ও ৫পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার শালা হাছিব, রহমত আলী ও প্রতিবেশী নুনু মিয়াকে সাথে দিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে নিহত জাহিদের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর বলেন, আমি খবর পেয়ে জাহিদের বাসায় গিয়ে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় গাড়ীতে তুলতে দেখি। ধারণা করছি জাহিদের শালা-সমন্ধিরা তাকে অত্যাচার করে থাকতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফুলতলা বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জাহিদ প্রায়ই মাদক সেবন করে ফুলতলা বাজারে উৎপাত করত, অসুস্থ হয়ে পড়ত। তার উৎপাতে এলাকার লোকজন অতীষ্ট ছিল।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জাকির হোসেন বলেন, রাতে জাহিদের লাশের সুরতহাল করা হয়। শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করছি সে হার্ট এ্যাটাকে মারা যেতে পারে।
জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, আটকের পর জাহিদকে কেহ কোন মারধোর করেনি। সে প্রায়ই মাদক সেবন করে এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ত। মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পরপরই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাথে সাথে কুলাউড়া হাসপাতালে পাঠালে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই জেলা প্রশাসক কর্তৃক নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল করা হয়। শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জুড়ী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং- ০১, তারিখ- ০৫.০১.১৯) হয়েছে।