সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় হঠাৎ করে ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিন দিনের ব্যবধানে এ উপজেলায় দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলাবাসীর মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এক সময় সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় অহরহ ঘটলেও গেল কয়েক বছর ধরে সিলেট মহানগর বা শহরতলিতে ডাকাতির ঘটনা কম ঘটেছে। তাও দীর্ঘ বিরতিতে। গোয়েন্দা তৎপরতা থাকায় বিভিন্ন সময় প্রস্তুতিকালেই ধরা পড়েছে ডাকাত দল।
কিন্তু গত তিন দিনের ব্যবধানে দক্ষিণ সুরমায় দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার পাশাপাশি খোদ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। ডাকাতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে উঠেপড়ে লেগেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম ইউনিয়নের সিলাম টিকরপাড়া গ্রামের ইহতেশামুল গণি তাজেলের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা গৃহকর্তা তাজেলকে গুরুতর আহত করে ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাত ৩ টার দিকে ৯-১০ জন ডাকাত বাড়ির গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে। এসময় ডাকাতদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। ডাকাতরা দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে গৃহকর্তা তাজেলকে গুরুতর আহত করে। পরে বাড়িতে রক্ষিত কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ১টি টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল, নগদ ৩ লাখ টাকাসহ ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায়। ডাকাতরা বাড়ির সিসিটিভির ডিভিআরও খুলে নিয়ে যায়।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ভোররাতে দক্ষিণ সুরমার গোপশহরের মাওলানা ইউসূফ আলীর বাড়িতে মুখোশপরা ৯-১০ জন ডাকাত হানা দেয়। এসময় ডাকাতরা মাওলানা ইউসুফ, তার মা ও স্ত্রী এবং দুই ভাইকে মারধর করে গুরুতর আহত করে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।
দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এখন কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াস শরীফ (বিপিএম-বার, পিপিএম) বলেন- ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ। পোষাকধারীদের পাশাপাশি সাদাপোষাকেও পুলিশ সদস্যরা মাঠে তৎপর রয়েছেন।