সিলেট নগরীর তিনটি ফোয়ারা পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। আবর্জনার পানি জমে থাকায় মশা জন্মাচ্ছে। এখানে এলেই মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হতে হয়। পাশাপাশি উৎকট গন্ধও সহ্য করতে হয়। ফোয়ারায় জমে থাকা পানিতে প্লাস্টিকের কাপ, চিপস ও বিস্কুটের প্যাকেট ভাসছে। ফোয়ারা গুলো হল সুরমা নদীর পাড়ে সার্কিট হাউসের বিপরীতে কিনব্রিজের ফোয়ারা হিসেবে পরিচিত ফোয়ারা, নাইওরপুল এবং দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় স্থাপিত ফোয়ারা।
সিলেট নগরের কিনব্রিজের উত্তর অংশে সুরমা নদীর পাড়ে সার্কিট হাউসের বিপরীতে আছে একটি ফোয়ারা। এটি কিনব্রিজের ফোয়ারা হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু এ ফোয়ারা এখন বিবর্ণ। ফোয়ারার ভেতরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ঘুরছে পোকামাকড়, উড়ছে মশা। ভেসে আছে আবর্জনা, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। কয়েক বছর ধরে কিনব্রিজের ফোয়ারার এমনই দশা।
স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, কিনব্রিজের ফোয়ারার মতোই দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে নগরের নাইওরপুল এবং দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বর এলাকায় স্থাপিত দুটি ফোয়ারা। চুরি হয়ে গেছে ফোয়ারাগুলোর পানি ছিটানোর মূল উপকরণ। অযত্ন–অবহেলায় এসব ফোয়ারা সৌন্দর্য হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয় না।
নাইওরপুল ফোয়ারার ভেতরে জমে থাকা পানিতে শেওলা জমে আছে। এ ছাড়া হুমায়ূন রশীদ চত্বরে স্টিল-পাকার সীমানাপ্রাচীরের ভেতর তিনটি ছোট ও একটি বড় ফোয়ারার অবস্থান। চারটির কোনোটিতেই পানি ছিটানোর যন্ত্র এখন আর নেই। ফোয়ারার ভেতরে পরিত্যক্ত পানিতে প্লাস্টিক, কাপড়চোপড়সহ নানা ধরনের বর্জ্য জমে আছে। চত্বরের সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশ ভাঙা। নানা ধরনের বিলবোর্ড সাঁটানোর কারণে ফোয়ারাগুলো ঢেকে পড়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ২৩ জুন হুমায়ূন রশীদ চত্বরের ফোয়ারাটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। এরপর ফোয়ারাটি নষ্ট হলে দুই দফা মেরামত করা হয়। এখন অন্তত ১০ বছর ধরে ফোয়ারাটি বিকল। একইভাবে ২০০৪ সালে নির্মিত কিনব্রিজের ফোয়ারাটিও কয়েক দফা সংস্কার করা হলেও গত আট বছর এটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নাইওরপুল ফোয়ারাটির উদ্বোধন করেন। এটিও গত কয়েক বছর ধরে বিকল হয়ে আছে।
ফোয়ারাগুলো দেখভাল করার দায়িত্ব সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের। এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ফোয়ারাগুলো বিকল হওয়ার পর কয়েক দফা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সংস্কার করে চালু করেছে। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায়, চোরেরা রাতের অন্ধকারে ফোয়ারার অনেক যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যাচ্ছে। তাই ফোয়ারাগুলো সংস্কার করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের কোষাধ্যক্ষ ছামির মাহমুদ বলেন, ফোয়ারাগুলো সচল থাকলে নগরের সৌন্দর্য অনেকটাই বেড়ে যেত। তাই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে ফোয়ারাগুলো পুনরায় চালু করা যায় কি না, সেটা সিটি করপোরেশন ভেবে দেখতে পারে। এ ছাড়া মশার উপদ্রব থেকে স্থানীয় লোকজনের কিছুটা হলেও শান্তি দিতে পরিত্যক্ত ফোয়ারাগুলো সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা উচিত।