• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সুনামগঞ্জ আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নতুন মুখে ভরপুর 

bijoy71news
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৩
সুনামগঞ্জ আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নতুন মুখে ভরপুর 

সম্মেলনের ছয় মাস পর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কমিটিতে কারা আসলেন আর কারা বাদ পড়লে এই আলোচনাই এখন টক অব দ্যা সুনামগঞ্জ। অনেক ত্যাগী ও পোড়খাওয়া নেতাকর্মীকে পদ দেয়া হয়েছে নতুন এই কমিটিতে।

 

তুলনামূলক নবীন নির্ভর দলকে জেলার আওয়ামী রাজনীতির নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যা সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করে তুলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির ৩৯ জন সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৯ জন ও ৩৬ জন সদস্যের মধ্যে ২০ জন নতুন মুখ স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। বিগত কমিটিতে থেকে বাদ পড়েছেন অন্তত ৩৮ জন নেতা। এর মধ্যে সম্পাদকীয় পদসহ ভাইটাল পদ থেকেও বাদ দেয়া হয়েছে অনেক নেতাকে।

 

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল ও সক্রিয় করতে নেতাকর্মীদের বিগত সময়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলের হাইকমান্ড।

 

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ সভাপতি পদে নতুনভাবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পীর অ্যাডভোকেট মুতিউর রহমান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, অ্যাড. দিলীপ কুমার দাশ, অ্যাড. চান মিয়া, আজহারুল ইসলাম শিপার, এছাড়াও সাবেক কমিটিরে সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল করিম, যুগ্ম সম্পাদক ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী,কৃষি বিষয়ক সম্পাদক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু বাবুলকে নতুন কমিটিতে সহ সভাপতি করা হয়েছে। বিগত কমিটির সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম নতুন কমিটিতে সহ সভাপতি পদে থাকলেও খায়রুল কবির নোমেন ও সৈয়দ আবুল কাশেমকে নেয়া হয়েছে সদস্য পদে। সিনিয়র সহ সভাপত পদে পদন্নতি হয়েছে গেল কমিটির সহ সভাপতি সাংসদ মহিবুর রহমান মানিকের। এছাড়াও বিগত কমিটির সহ সভাপতি অ্যাড. আফতাব উদ্দিন, অ্যাড. অবনী মোহন দাশ ও সিদ্দিক আহমদকে অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার কারনে নতুন কমিটির উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদে স্থান দেয়া হয়েছে আওয়ামীগ নেতা জেলা বারের আইনজীবী নজরুল ইসলাম সেপুকে। স্বপদে বহলা রয়েছেন হায়দার চৌধুরী লিটন। বিগত কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীকে নতুন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শংকর চন্দ্র দাস স্বপদে বহাল থাকলেও বাদ পড়েছেন সিরাজুর রহমান সিরাজ। এই পদে নতুন স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু। এছাড়াও বিগত কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান সেন্টুকে পদন্নতি দিয়ে করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক। কোষাধ্যক্ষ পদে বাদ পড়েছেন ইসতিয়াক শামীম। নতুনভাবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মুুজিবুর রহমান তালুকদার। বিগত কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজাদুল ইসলাম রতনকে স্থান দেয়া হয়েছে আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে। অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জলকে দপ্তর সম্পাদক পদে বাদ দিয়ে এই পদে নতুনভাবে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে অ্যাড. বিমান কান্তি রায়কে।

 

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে কাউন্সিলার গোলাম সাবেরী সাবুকে বাদ দিয়ে বিগত কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কল্লোল তালুকদার চপকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছেন। মহিলা সম্পাদক পদে বাদ পড়েছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়াকে। এই পদে স্থান দেয়া হয়েছে সুখাইড় রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা দীপাকে। বিগত কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদ থেকে প্রভাষক আবু নাসেরকে বাদ দিয়ে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে শীতেষ তালুকদার মঞ্জুকে। সংস্কৃতি সম্পাদক পদে অভিজিৎ চৌধুরীর পরিবর্তে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আফতাব মিয়া রাখা হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে সৈয়দ মাসুম আহমদকে নতুনভাবে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে অ্যাড. গোলাম মোস্তফাকে বাদ দিয়ে এই পদে স্থান দেয়া হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ানকে। উপ-দপ্তর সম্পাদক পদে মাহবুুবুল হক জয়েদের পরিবর্তে নিজাম উদ্দিন এমকম, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে হুমায়ূন রশীদ লাভুলুর পরিবর্তে শুভ বণিককে নতুনভাবে পদ দেয়া হয়েছে। কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক পদে মাহমুদুল হাসান টিপু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক পদে সম্পাদক সবুজ কান্তি দাশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট স্বপন রায় সপু, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক পদে সম্পাদক অ্যাড. আমিনুর রশীদ রনক, শ্রম সম্পাদক পদে ফজলুল হক কমিটিতে রয়েছেন নতুন মুখ হিসাবে। এছাড়াও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে মফিজুল হক মফিজ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. আবুল কালাম চৌধুরী স্বপদে বহাল রয়েছেন।

 

সদস্য পদে নতুন মুখ হিসেবে রয়েছেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, অ্যাডভোকেট রনজিত সরকার, সৈয়দ ফারুক আহমদ, মো. সেলিম আহমদ, আজমল হোসেন সজল, সৈকতুল ইসলাম সৈকত, অনুপম রায়, ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন, আজাদ হোসেন, সজিব রঞ্জন দাস, অ্যাডভোকেট আব্দুল ওদুদ, এটিএম শাহীন রেজা, অজয় কান্তি তালুকদার দোলন, মাহতাবুল হাসান সমুজ, নায়েব আলী, মো. সাহারুল আলম, মাসুক আহমদ সরদার, কামরুল হুদা সচি, লিটন সরকার, সাজ্জাদ হোসেন নাহিদ, অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া, , প্রদ্যোত কুমার তালুকাদার, শাহরিয়া বিপ্লবকে পদায়ন করা হয়েছে।

 

বিগত কমিটির আল আমীন চৌধুরী, এমদাদ রেজা চৌধুরী, জুনেদ আহদ, আতিকুল ইসলাম আতিক, হাজী আবুল কালাম, অমল কান্তি কর সদস্য পদে থাকলেও বাদ পড়েছেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুস সামাদ ডন, সাবেক সংসদ সদস্য শামছুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বানী, দিরাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মঞ্জরুল আলম চৌধুরী, সামছুজ্জামান (মাস্টার), সুবির তালুকদার, মশিউর রহমান জুয়েল, ইমামুজ্জামান মহি, ফজলুল কবীর তুহিন, রেজাউল আলম নিক্কু, মলয় চক্রবর্তী রাজু রফুউল্লাহ্ ফজলু, নূরু ল ইসলাম, তৈয়ব কামালী, নিজাম উদ্দিন, হাসান মাহবুব সাদী এডভোকেট, আবু সাদাত মোঃ লাহীন, শামীম আকঞ্জী, আলমগীর কবীর, সিরাজুল ইসলাম, অমল কান্তি চৌধুরী হাবুল, সৈয়দ তারেক হাসান দাউদ, ফেরদৌসী সিদ্দিকা ও জামিল চৌধুরী।

সদস্য পদে যাদের রাখা হয়েছে তারা হলেন, সুনামগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পামন্ত্রী আব্দুল মন্নান এমপি, ড. জয়াসেন গুপ্ত এমপি, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, শামীমা আক্তার খানম এমপি, অ্যাডভোকেট নান্টু রায়, সৈয়দ আবুল কাশেম, হাজী আবুল কালাম, অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির নোমেন, জুনেদ আহমদ, এছাড়াও উপদেষ্টা হিসেবে প্রবীন আওয়ামীলীগার সিদ্দিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট আফতার উদ্দিন, অ্যাডভোকেট রইস উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আলী আমজদ, অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস, আব্দুস ছোবহান আখঞ্জী, ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, কামরুজ্জামান দারা, জসীম উদ্দিন দিলীপ, করুন সিন্ধু তালুকদার, আফতাব উদ্দিন।

 

নতুন এই কমিটিকে তৃণমূল্যের প্রত্যাশা অনুযায়ি হয়েছে বলে জানিয়ে জেলা কমিটির সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি সুন্দর ও গতিশীল কমিটি গঠন হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এতোদিন যাঁরা দলের জন্য ত্যাগ করেছে দল তাদের মূল্যায়ন করেছে। আমরা আশা করি এই কমিটির দ্বারা আগামীতে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও মজবুদ ও শক্তিশালী হবে।