• ৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ধোপাগুলে মসজিদের ভূমি নিয়ে সংঘর্ষ

bijoy71news
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সদর উপজেলার খাদিমনগরের ধোপাগুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে সেক্রেটারী ও তাঁর ভাইদের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার ইফতারের আগ মুহুর্তে মসজিদ সংলগ্ন মসজিদের সেক্রেটারী নাসির উদ্দিনের বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটেছে। হামলাকালে মধ্যস্থতাকারী’সহ উভয় পক্ষের ১৫/২০জন আহত হয়েছেন।

হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন- ধোপাগুল জামে মসজিদের সেক্রেটারী ও বিামন বন্দর স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি স্থানীয় মৃত নুনু মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, তাঁর ছোট ভাই কবির আহমদ ও জাকির হোসেন। আহতদেরকে সিলেট ওসমানী ওমডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। খবর পেয়ে বিমান বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, মসজিদের ভুমি নিয়ে সংঘর্ষ হয়নি বরং পারিবারিক পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ধোপাগুল জামে মসজিদের সেক্রেটারী নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বিমান বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপর দিকে মুহিবুর রহমান সুলেমান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

জানা যায়, ধোপাগুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে স্থানীয় মৃত নুনু মিয়া ও তার ভাই কুনু মিয়া ২১ শতক ভূমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। তাছাড়া এলাকার নইমুল্লাহ নামক অপর আরেকজন আড়াই শতক ভূমি মসজিদের নামে দান করেন। সম্প্রতি মসজিদের জায়গা নিয়ে একটি জাল তৈরী করে মসজিদের ভূমি আত্মাসাতের চেষ্টা করা হলে মসজিদ কমিটির পক্ষে সেক্রেটারী নাসির উদ্দিন একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইরভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

এলাকাবাসী ও মসজিদ কমিটির লোকজন অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মসজিদের ভূমিতে ৪টি দোকান রয়েছে। দোকানের সেই ভাড়া মসজিদ ফান্ডে জমা হচ্ছে। কিন্তু তাতে বাধাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মৃত কুনু মিয়ার ছেলে মখলিছুর রহমান, মুহিবুর রহমান সুলেমান ও ইলিয়াছুর রহমান। তবে মখলিছুর রহমান মসজিদ কমিটির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মসজিদ ফান্ডের হিসাব দেন নাই বলে অভিযোগ করেন আহত ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ও কবির আহমদ।

তারা জানান, সম্প্রতি মসজিদের সাড়ে ১৩ শতক ভূমি সড়ক ও জনপথ রাস্তার নামে অধিকগ্রহণ করেন। সেই টাকা মসজিদ ফান্ডে না দিয়ে একটি পক্ষ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন। এতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান মসজিদ কমিটি ও এলাকার লোকজন। এখন পর্যন্ত সেই টাকা মসজিদ কমিটি আনতে পারেন নি। অধিক গ্রহণকৃত জায়গায় মসজিদের সেই দোকান ও উন্নয়ন কাজে মৃত কুনু মিয়ার ওয়ারিছরা নানা ভাবে বাঁধা দিয়ে আসছিলেন। এরই জের ধরে ২৪ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধোপাগুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন নাসির উদ্দিনের বাড়ির সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুহিবুর রহমান সুলেমান, মখলিছুর রহমান, মাছুম, রুহেল, আকাশী, ইব্রাহিম, রুমেল, ফুয়াদ, রুবেল ও তাদের বোনের জামাই আব্দুল আহাদ এর নেতৃত্বে ২০/২৫জন লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী নাসির উদ্দিন, কবির আহমদ, জাকির হোসেন। আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মধ্যস্থতাকালে তারাও আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় কবির আহমদ, জাকির আহমদ ও নাসির উদ্দিনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে কবির আহমদের অবস্থা আশংকার জনক। তার মাথায় ৩৬টি সেলাই হাতে ও বুকে গুরুতর জখম রয়েছে।

হামলার ঘটনার অপরপক্ষ মুহিবুর রহমান সুলেমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মসজিদের ভূমি নিয়ে আলেমদের ফতোয়ার ভিত্তিতে আমরা জায়গা ও দোকানের ব্যাপারে আপত্তি জানাই। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার বোনের জামাই মাওলানা আব্দুল আহাদকে একা পেয়ে নাসির ও তার লোকজন হামলা চালিয়ে আহত করে। পরে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে তাদের হামলায় আত্মীয় দিলোয়ার হোসেন রুবেল, রুমেল, মাছুম, ইব্রাহিম গুরুতর আহত হয়।

তিনি বলেন, আমরা মসজিদের কাজে কোন বাধা দেইনি। আমার বাবা মসজিদের ভূমি দিয়েছেন। তাই টাকার হিসাব নিয়ে আনীত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফতোয়ার কারনে আমার বোন জামাইয়ের উপরে হামলা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. সুলায়মান আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ও তাঁর ভাইদের উপর হামলার ঘটনাটি শুনেছি। আজ (শনিবার) এলাকার পঞ্চায়েত কমিটি বসে সকলের সম্মত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিমান বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মাইনুল জাকির বলেন, মসজিদের প্বার্শের জায়গা নিয়ে বিরোধ। তাছাড়া পারিবারিক জায়গা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের রয়েছে। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মুহিবুর রহমান সুলেমান বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।