নিজস্ব প্রতিবেদক :: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক উরস মোবারক ও জাদুকাটা নদীর তীরবর্তী পুণ্যতীর্থ বারুণীমেলায় স্নানযাত্রা উৎসব বন্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়ের সাহিদাবাদে হযরত শাহ আরেফিনের (রহ) আস্থানায় চলতি বছর ৯ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী বার্ষিক উরস মোবারক ও রাজারগাঁও শ্রী অদ্বৈত আচার্যের জন্মধাম জাদুকাঁটা নদীতে একই সময়ে গঙ্গা স্নানযাত্রা মহোৎসব এবং বারুণীমেলা হওয়ার কথা ছিল।
প্রাচীন রীতি অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ বছরের অধিক সময় ধরে তাহিরপুরে একই সময়ে তিন দিনব্যাপী উরস ও গঙ্গা স্নানযাত্রা মহোৎসব চলে আসছে। এতে দেশ-বিদেশের ৫ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে।
তবে গত বছরের ন্যায় এই বছর দ্বিতীয়বারের মতো করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে উৎসব দুটি সর্বসম্মপতিক্রমে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত এক জরুরি সভায় এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
জরুরি সভায় দেশে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় চলতি বছর (৯-১১ এপ্রিল) হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্থানায় বার্ষিক ওরস ও শ্রী অদ্বৈত আচার্যর জন্মধাম জাদুকাঁটা নদীর পুণ্যতীর্থে গঙ্গা স্নানযাত্রা মহোৎসব ও বারুণী মেলা, জেলাজুড়ে সব প্রকার গণজমায়েত , ওরস স্থল, অদ্বৈত আচার্যর জন্মধাম রাজারগাঁও, জাদুকাটা নদীর চর, গড়কাটি ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে গণজমায়েত বন্ধ করা হয়।
এছাড়া খাবারের রেস্টুরেন্ট, খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রীর দোকানপাঠ, গান বাজনার জন্য কাফেলাঘর ও যে কোনো ধরণের অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি বন্ধ রাখা, যানবাহন পার্কিংয়ের নামে কোনো স্ট্যান্ড তৈরি না করা, ওরস ও স্নানযাত্রা মহোৎসবে এমনকি পর্যটন কেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাট শহীদ সিরাজ লেক. জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগানসহ জেলার সব পর্যটন স্পটে দেশি বিদেশি অতিথি আগমনের নিরুৎসাহিতকরণ বিষয়ে নানা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি মানুষজনের গণজমায়েত রোধে ও করোনাভাইরাস দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলায় দুই ধর্মের প্রতিনিধিরাই মূলত ওই দুটি উৎসব বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাই বার্ষিক উরস, পুণ্যতীর্থে বারুণীমেলা এবং গঙ্গা স্নানযাত্রা উৎসব হচ্ছে না।