• ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

১২ ঘন্টা পুলিশ হেফাজতে মামলার বাদী

bijoy71news
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১
১২ ঘন্টা পুলিশ হেফাজতে মামলার বাদী

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

১২ ঘন্টাপুলিশ হেফাজতে থাকলেন সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার বাদী। আদালতের নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না থেকে বারবার কালক্ষেপণ করায় তাকে এভাবে পুলিশ হেফাজতে থাকতে হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টা থেকে সকাল প্রায় ১১ টা পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে আদালতে হাজির করলে অবশেষে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো. মোহিতুল হক।
এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি তারিখে বাদীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জারি করেন আদালত।
এদিকে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, গত ১৭ জানুয়ারি এ মামলার চার্জ গঠন করা হলে ২৪ জানুয়ারি তারিখে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে যথাসময়ে আদালতে উপস্থিত থাকতে বাদীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। পরবর্তীতে ২৪ তারিখে বাদী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত মামলার বাদীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ পরোয়ানার বলেই গত ৬ তারিখ দিবাগত রাতে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বাদী পক্ষের এ আইনজীবী আরও জানান, ‘২৪ তারিখ বাদীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ২৭ তারিখ সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। তবে আমরা ২৪ তারিখেই গণধর্ষণ ও চাঁদাবাজী মামলা এক সাথে চালানোর স্বার্থে মৌখিকভাবে সময় প্রার্থনা করি। কিন্তু আদালত তা আমলে না নিয়ে বাদীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করেন। পরে ২৭ তারিখ আমরা দুটি মামলা একসাথে চালানোর স্বার্থে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছি মর্মে আদালতকে অবগত করে গণধর্ষণ মামলা আপাতত মূলতবি রাখার আবেদন জানাই এবং বাদীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের আবেদন জানাই। আর পুলিশ বাদীকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে আদালতকে জানালে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবত রাখেন। একই সাথে ৭ তারিখ সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।’
এডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী আরও জানান, ‘যদিও ধার্য তারিখ ছিলো ৭ ফেব্রুয়ারি কিন্তু আমরা ৪ ফেব্রুয়ারি গণধর্ষণ মামলা ও চাঁদাবাজী মামলা একসাথে চালানোর অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করি। পরে হাইকোর্ট ৭ ফেব্রুয়ারি আবেদনের শোনানির তারিখ নির্ধারণ করেন এবং মামলা দুটি একই আদালতে চালানোর নির্দেশ দেন। এর আগে পুলিশ মামলার বাদীকে গ্রেপ্তার করলে সকাল ১১ টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আমরা হাইকোর্টে আবেদনের নথিপত্র উপস্থাপন করে আদালতকে অবগত করলে আদালত পরবর্তী তারিখে বাদী উপস্থিত হবেন মর্মে মুচলেখা রেখে মুক্তি দেন।’
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত পরিবর্তন করে গণধর্ষণ ও চাঁদাবাজী মামলা এক সাথে চালানোর নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে আবেদন করা হয়। পরে এ আবেদনের শোনানি হয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন শোনানি শেষে বিচারিক আদালত পরিবর্তনে আবেদনে সাড়া না দিয়ে হাইকোর্টের এ বেঞ্চ দুই মামলা এক সঙ্গে একই আদালতে চালানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার বাদী, সাক্ষী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিলেট পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন। এছাড়া, কোনো আসামির আইনজীবী না থাকলে তাকে আইনজীবী দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার এম আব্দুল কাইয়ুম লিটন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
এর আগে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে তরুণীকে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তারা হলেন— সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।