বি৭১নি ডেস্ক ::
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে করোনার পরীক্ষা কার্যক্রমও সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, কমিউনিটি সংক্রমণের বিস্তার যেনো না হয়, সেজন্য সরকারের নীতির বা দু’টি সিদ্ধান্তে বড় ধরণের এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষক বলেছেন, করোনার পরীক্ষা এতদিন সীমিত পর্যায়ে হওয়ায় সমাজের আসল চিত্র পাওয়া যায়নি, সেজন্য সরকার অনেকটা বিলম্বে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সারাদেশেই অনেক জায়গা থেকে ঘরে না থেকে লোকজনে রাস্তায় বেরুনো বা সরকারি নির্দেশ না মানার অভিযোগ আসছিল।
এই পটভূমিতে লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে থাকা সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
বুধবার সরকার সামাজিক দূরত্ব রক্ষা বা মানুষকে ঘরে রাখার কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিলেট থেকে একজন সমাজকর্মী ইন্দ্রানী সেন শম্পা বলছিলেন, তাদের নগরীর অলিগলিতেও এখন সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।
“লকডাউনের মধ্যেই গত কয়েকদিন সিলেটের বিভিন্ন রাস্তায় অনেক মানুষের চলাচল দেখা গেছে। তারা কাজে যাওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে আজকে আমরা লক্ষ্য করলাম যে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের তৎপরতা অনেকে বেশি।”
“প্রতিটা অলিগলিতে তারা টহল দিচ্ছে এবং হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করছে। তারা বাঁশি বাজিয়ে রাস্তা থেকে মানুষকে চলে যেতে বলছে। তাদের সাজোয়া বহর অনেক সময় টহল দিয়ে সাইরেন বাজাচ্ছে, যাতে মানুষ রাস্তায় না থাকে।”
চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, বগুড়া এবং রংপুরসহ অন্যান্য জেলা থেকেও সেনাবাহিনীর তৎরতা জোরদারের একই ধরণের চিত্র পাওয়া গেছে।
রাজধানী ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় যানবাহন এবং মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, মাঠে এখন এই জোরদার তৎপরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপও নেবে, এমন সিদ্ধান্ত সরকারের রয়েছে।
দেশের ৬২টি জেলায় সেনাবাহিনী এবং উপকূলীয় ১৯টি উপজেলায় নৌবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তা দিতে কর্মকান্ড চালাচ্ছে।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এর পরিচালক লে: কর্ণেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলছিলেন, মাঠে সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।