দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :
দোয়ারাবাজারে জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩৬ জন আহত হয়েছে। এসময় আব্দুল খালেকের পক্ষের লোকজনের একটি ঘরও ভাঙচুর করা হয়।
বুধবার (৩১ মার্চ) সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- আব্দুল খালিকের গ্রুপের রহিমা বেগম (৪৫), সৈয়দুন নেছা (৩৫), সোনারা বেগম (২৭), ইউসুফ আলী (৬৫), ফরিদ মিয়া (২৬),আব্দুল হান্নান (৪০), সমসু মিয়া (২৭), মামুনা বেগম (৭), জাহাঙ্গীর (২০), অযুত মিয়া (৪০), সহিদ মিয়া (৩২), সিরাজ মিয়া (৩৮), আমিরুন নেছা (২৫), মিনার (১৮), মতিন (২৮), কামাল (২২) সুজন (২১)।
মাওলানা সফিক উদ্দিন গ্রুপের আহতরা হলেন, নুরুল ইসলাম (৬৫), আশ্রাফ আলী (৫৫), মাহমদ আলী (৫০), হুছন আলী(৪৫), কেরামত আলী (৫০), আছমত আলী (৬৫), আনছর আলী (৩৫), সামছুল (২৩), সফিকুল ইসলাম (৪৩), আইনুদ্দিন (৩৫), জরিনা (৩০), আজিয়া (৩০), জিকরা আক্তার (১৫), সুহেনা (১২), জাহানারা (৪০), রাবিয়া (৪৫), মনোয়ারা বেগম (২৮)।
জানা যায়- আব্দুল খালিক গ্রুপ ও মাওলানা সফিক উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মারামারি ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। গত ডিসেম্বর মাসে জমিতে ধান কাটা, ঘর উঠানো ও মাটি কাটার জের করে বুধবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যপারে আব্দুল খালিক বলেন, ‘আমার রেকর্ডিয় জমিতে ঘর বেধে বসবাস করছে আমার ভাতিজার পরিবারের লোকজন। সেই ঘরটি মাওলানা সফিক উদ্দিনের লোকজন ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের কলমদর আলীর ছেলে রেজাসহ তার ৩ ভাই ও তাদের আত্মীয়-স্বজন সবাই মিলে ঘরের মালামাল ও নগদ টাকাসহ প্রায় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমরা বাঁধা দিলে আমাদের মহিলা সহ ১৮ জনকে মেরে আহত করে।’
মাওলানা সফিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুল খালেকের বাবা আলখাছ আলী আমাদের কাছে ১ কেদার জমি বিক্রি করলেও দীর্ঘদিন যাবত আমাদের রেকর্ডিও ভূমিতে দখল না দিয়ে খাস জমি হস্তান্তর করে তারা। আমরা রেকর্ডের জমিতে দখল নিতে গেলে আব্দুল খালেক তার বাবার বিক্রি অস্বীকার করছে। বুধবার সকালে আমাদের জায়গা থেকে জোরপূর্বক মাটি কাটছিল। আমরা বাঁধা দিলে খালিকের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায় এবং বাড়িঘর লুটপাট করে।
এ ব্যাপারে দোয়ারা থানায় ওসি মো. আবুল হাসেম বলেন, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।