• ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

হবিগঞ্জে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি

bijoy71news
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০১৯

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বৃদ্ধি এবং বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মতিলাল জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুশিয়ারা নদীর হবিগঞ্জ অংশের পানি বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। খোয়াই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত হওয়ায় ঝুঁকি কম থাকলেও নবীগঞ্জের পারকুল এলাকায় কুশিয়ারার বাঁধ কিছুটা দুর্বল রয়েছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক রয়েছে। তবে খোয়াই নদীর হবিগঞ্জ শহর অংশের পানি শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপদসীমার নীচে ছিল।
তিনি আরও জানান, যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে এবং ভারত থেকে বেশী পরিমাণ পানি আসে তাহলে নদ-নদীগুলোর পানির অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এতে করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাক, পারকুল, আলীপুর, করিমপুর, ইনাতগঞ্জ, কসবা, নতুন কসবা, কাতিয়া, ফেসি, আটগর, মাধবপুর, কারনিছড়া, জালালপুর, সৈয়দপুর, ফাইলগাঁও, পুরান আলাকান্দিসহ বেশ কয়েকটি জায়গা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার মার্কুলী, সাওদেশ্বরী, ধীতপুর এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর, বদলপুরসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপারের সভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, যত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হউক না কেন পুরাতন খোয়াই নদী উদ্ধারের বিকল্প নেই। বৃষ্টিপাত আসলে প্রাথমিকভাবে এই নদীতেই পানি জমবে। এতে করে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।
এদিকে টানা বর্ষণে হবিগঞ্জ শহর ছাড়াও চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে গৃহবন্দি হয়েছেন শত শত মানুষ।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও রাজস্ব) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, এখন পর্যন্ত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। খবর পাওয়া গেলে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে জেলা প্রশাসন।