কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ‘জুন ক্লোজিং’-এর নামে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কমলগঞ্জ জোনালসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে ভুতুড়ে বিল। এছাড়াও সিস্টেম লস ঘোচাতে বিদ্যুৎ লাইনে মেইন্টেনেন্স কাজের নামে সাত, আট ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকা, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মে-জুন মাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে অনেক গ্রাহকদের দ্বিগুণ, তিনগুণ বিল আসার অভিযোগ নিয়ে সাথে মুখ খুলতে শুরু করেছেন এসব বিদ্যুৎ গ্রাহক।
জানা যায়, কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা একাংশের প্রায় ৯০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এসব বিদ্যুৎ গ্রাহক গত এক মাস যাবত ঘন মেইন্টেনেন্স কাজের জন্য সাত, আট ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ আসার পর আবার চলে যায়। প্রচন্ড গরমের সময়ে এভাবে ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এ ছাড়াও মে ও জুন মাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে দ্বিগুণ, তিনগুল বিল আসছে। মিটার রিডিং সঠিক থাকলেও এই সময়ে অস্বাভাবিক বিল গ্রাহকদের বিড়ম্বনায় ফেলে দিচ্ছে। অন্য সময়ের তোলনায় বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও বিল দ্বিগুণ দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রাক্তন এক পরিচালক জানান, জুন মাস বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে তারা সিস্টেম লস ঘোচাতে ইচ্ছেকৃতভাবে বিলে বেশি টাকা আদায় করে নেয়। তাছাড়া সিস্টেম লস ঘোচাতে ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ঘন ঘন লোডশেডিং করা হয়। এগুলোর কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাও অনেক সময় বাড়তি সুবিধাও পেয়ে থাকে।
ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হাজীপুরের মাওলা এমরান আলী, পতনঊষার ইউনিয়নের নুরুল মোত্তাকিম. শওকত আলী, শমশেরনগর বাজারের রমা দাসগুপ্তসহ গ্রাহকরা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে বিলি করা জুনের বেশিরভাগ হিসাবেই অতিরিক্ত বিল দেয়া হয়েছে। অনেক মিটার রিডার তাদের সরেজমিন মিটার প্রদর্শন না করেই অনুমানের উপর রিডিং লিখে বিলে তুলে দেয়া হয়।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক ও সমিতি বোর্ডের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন ‘ভুতুড়ে বিলের মৌখিক অভিযোগ অনেক গ্রাহকদের কাছ থেকে পাচ্ছি। আগামী জুলাই মাসে সমিতির বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করে এর জবাব চাওয়া হবে।’
অভিযোগ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোবারক হোসেন সরকার বলেন, সম্প্রতি সময়ে বিদ্যুৎ লাইন ও ফিডারে বেশ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এগুলোর কাজ চলছে। দু’এক মাসের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। তাছাড়া লোডশেডিং, সিস্টেম লস গোচানোর অভিযোগ সঠিক নয়। বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার বিষয়টি মিটার রিডিং এর উপর নির্ভরশীল।