বি৭১নি ডেস্ক :
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন।
রোববার (২৩ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
সিইসির সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের লতিফ সিদ্দিকী জানান, আমি আর নির্বাচন করছি না। কারণ মাঠ নির্বাচন করার মতো সমতল নয়। মাঠ এমনই সমতল যে পুলিশের বুটের তলে পড়তে হয়। আর সন্ত্রাসীদের লাঠির আঘাত খেতে হয়। আমার অফিস ভেঙে দিয়েছে। আমার নিরীহ লোকদের প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার করছে। যারা সমর্থক তাদের পুলিশ প্রতিনিয়ত টেলিফোন করে ভয় দেখাচ্ছে। এরপরে ইলেকশন করা যায় নাকি?
তিনি আরও বলেন, ইলেকশনটা তো বাণিজ্য নয়। আমি জীবনে অনেক ইলেকশন করেছি। ১৯৭০ সাল থেকে শুরু করেছি আজ ২০১৮ সাল। এই রকম নির্বাচন আমার এলাকায় আমি জীবনেও দেখিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিইসির সঙ্গে দেখা করেছি। কিছুই চাইনি। আমি কিছু চাওয়ার লোক না। আমি বলে আসলাম, আপনি যে পরিচালনাটা করছেন এই পরিচালনায় আপনি ব্যর্থ। এই পরিচালনায় নির্বাচন হতে পারে না। তাই আমি মাঠ ছেড়ে দাঁড়ালাম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন তো আর প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তাই আমি সরে দাঁড়ালাম। আমি নিরীহ মানুষকে হতাহত হওয়ার সুযোগ কেনো করে দেবো? যারা হতাহত হবে তাদের দায় আমাকে নিতে হবে। আমি সেই দায় নেবো না। এটা স্বাধীনতা যুদ্ধ না যে, মুখোমুখি লড়াই করবো। যার সঙ্গে লড়াই করবো সে আমারই কর্মী কিংবা কর্মীর সন্তান। আমি কেন যাবো এই ধরনের হানাহানিতে?
তিনি বলেন, আমি তাকে (সিউসি) বলে দিয়ে আসলাম আপনি স্বীকার করুন আর না করুন আপনি ব্যর্থ।
কমিশনের পক্ষ থেকে কি বলা হল জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, কিছুই বলা হয়নি। আমিতো তার কাছে শুনতে চাইনি। আমি বলেছি এক মিনিট আপনার সঙ্গে দেখা করে চিঠি দিয়ে চলে যাবো।
এর আগে ১৬ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বেড, কাঁথা, বালিশ বিছিয়ে ও লেপ-কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি অনশনের ঘোষণা দেন।
অনশনরত অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে নয়টায় তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মহাজোট সরকারে লতিফ সিদ্দিকী পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন। সে নির্বাচনের পর তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে হজ, তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ সম্পর্কে মন্তব্য করে সমালোচিত হন। এ জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার ও মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। দেশে ফিরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি লাভ করেন। তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় টাঙ্গাইল-৪ আসনটি শূন্য হয়।
সংসদ থেকে পদত্যাগের পর লতিফ সিদ্দিকী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন সময় সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি ও তার স্ত্রী যোগদান করতেন।
২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে হাসান ইমাম খান সাংসদ হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বর্তমান সাংসদ হাসান ইমাম খানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন না করায় এখন মূল লড়াই হবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের পদত্যাগী সহসভাপতি মো. লিয়াকত আলীর সাথে। ফলে এ আসনের নির্বাচন ত্রিমুখী লড়াই আর দেখা যাচ্ছে না।